কিউবার কর্তৃপক্ষ সোমবার জানিয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবায় জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টাকালে ধৃত ব্যক্তিরা তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ফরেনসিক পরীক্ষায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২৫ ফেব্রুয়ারি, যখন কিউবান বংশোদ্ভূত ১০ জন ব্যক্তি একটি স্পিডবোটে করে কিউবার জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিউবার কোস্ট গার্ড তাদের বাধা দিতে গেলে তারা গুলি চালায়। এ সময় তিন আক্রমণকারী নিহত হন এবং পরবর্তীতে আঘাতের কারণে চতুর্থ একজন প্রাণ হারান। এই সংঘর্ষটি কিউবার উত্তর উপকূলের ক্যাও ফ্যালকোনেস থেকে প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দূরে ঘটে। কোস্ট গার্ডের ক্যাপ্টেন এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ স্থলভাগে সহায়তাকারী একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।
কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে এই গোষ্ঠীর কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের প্রদর্শন করেছিল। এর মধ্যে ছিল রাইফেল, হ্যান্ডগান, বিস্ফোরক, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম, জেনারেটর, গোলাবারুদ এবং প্রয়োজনীয় রসদ। কিউবার কর্মকর্তা এস্ট্রাডা জানান, উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলো যেকোনো ধরনের ক্ষতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অমিজাইল সানচেজ নামের এক ব্যক্তি, যিনি ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তিনি প্রথম গুলি চালিয়েছিলেন। সানচেজ বর্তমানে কিউবার হেফাজতে রয়েছেন এবং গত বছর কিউবা কর্তৃক জাতিসংঘের কাছে জমা দেওয়া সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম ছিল। ধৃত আরেক সন্দেহভাজন লিওর্ডান ক্রুজও এই তালিকায় রয়েছেন। কিউবা কর্তৃপক্ষের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন ভিডিও রেকর্ডিংয়ে বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল কিউবার একটি এলাকা দখল করে সরকারকে উৎখাতে স্থানীয়দের উৎসাহিত করা।
কিউবা এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠালেও সোমবার পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি। কিউবার আইন অনুযায়ী এই অপরাধগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, যদিও কিউবায় কয়েক দশক ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি এবং প্রসিকিউটররা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো শাস্তির আবেদন করেননি। কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটল, যেখানে ওয়াশিংটন কিউবার সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে নানা চাপ প্রয়োগ করে আসছে।

