ফ্রান্সে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা নিয়ে বিদেশি নেতাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় কাতারের দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যগুলো অগ্রহণযোগ্য এবং ভিত্তিহীন। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো নেতার নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার এই বক্তব্যকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের দিকে সরাসরি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ম্যাক্রোঁ দাবি করেন যে, দাঙ্গা চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওর মাধ্যমে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিবাসী এবং ইসলামপন্থীদের মাধ্যমে ফ্রান্স আক্রান্ত হচ্ছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই দাঙ্গার ঘটনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ নেই, তবে দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে বিদেশি নেতাদের কাছ থেকে আসা মন্তব্যগুলো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এর আগে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে ফ্রান্সে চরমপন্থী ইসলামের আগ্রাসন চলছে। তিনি জানান, হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ হামলার পর তিনি ম্যাক্রোঁকে বলেছিলেন, যদি তাদের নির্মূল করা না হয়, তবে প্যারিসেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাঙ্গার জন্য ফ্রান্সের গণঅভিবাসন নীতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এটি স্কুলের বিষয় নয়, বরং যারা দেশটিকে ঘৃণা করে তাদের আগমনের ফল। তিনি ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য যে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্র ধরে ফ্রান্সের প্যারিস, লিওঁ, মার্সেই এবং নিসসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৮০০ জনেরও বেশি মানুষকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ফরাসি সরকার স্বীকার করেছে যে, দাঙ্গার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অতি-বামপন্থী গোষ্ঠীগুলো যারা এই বিশৃঙ্খলার পেছনে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ আপসহীন থাকবে।

