শক্তিশালী টাইফুন চ্যাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় শুক্রবার পূর্ব এশিয়ার আকাশপথ ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ঝড়ের প্রভাবে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং তাইওয়ানের অধিকাংশ সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার তাইওয়ানের প্রায় ২২টি কাউন্টি ও শহরে এই দুর্যোগের কারণে কর্মবিরতি ও ছুটি কার্যকর ছিল, যা স্থানীয়ভাবে 'টাইফুন হলিডে' নামে পরিচিত। দেশটির ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের স্টক এক্সচেঞ্জও এদিন বন্ধ রাখা হয়। তবে কিনমেন কাউন্টি স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে, ১৭১ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে চ্যাম্পির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল)। তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত চরমে পৌঁছাতে পারে এবং তা সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। দ্বীপটিতে প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার (৩৫ ইঞ্চি) বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝড়ের কেন্দ্রস্থল সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম, তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে ঝড়ের গতিপথ পরিবর্তন বা থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নাগরিকদের উপকূল ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চ্যাম্পির প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রায় ৮,৪০০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং জাপানি চারটি এয়ারলাইন্সের ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফিলিপাইনের বাতানেস দ্বীপপুঞ্জেও ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সমুদ্রতীরবর্তী গ্রামে ঢেউ আছড়ে পড়ার ছবি দেখা গেছে। চ্যাম্পি চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটার গতিবেগে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছিল, যা ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনের সমতুল্য। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাবে এ বছর টাইফুন মৌসুম বেশ সক্রিয় রয়েছে এবং চ্যাম্পি জাপানের এ বছরের ৩০তম টাইফুন।

