অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির বিভিন্ন বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে পুরো একটি রাস্তা সমতল হয়ে গেছে বলে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার এই অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে এক চেকপয়েন্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন। ওই বন্দুকধারীদেরও পরে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু বলেছিলেন যে, হামলার স্থান এবং বন্দুকধারীদের এলাকাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
হেবরনের মেয়র ইউসেফ আল-জাবারি জানিয়েছেন, এই অভিযানে আইন দেইর বাহা এবং ফার্শ আল-হাওয়া এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প স্থাপনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। মেয়র আরও জানান, এই অভিযানের ফলে ১০০০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অনেক পরিবারকে কোনো যানবাহন ছাড়াই ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং ধ্বংসের জন্য চিহ্নিত বাড়িগুলোতে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে দাগ দেওয়া হয়েছে।
শহরটির গভর্নর এবং ডেপুটি মেয়রের তথ্যমতে, অন্তত ২০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মেয়রের ধারণা অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী ০.৩৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে প্রায় ২৫০০ মানুষকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এদিকে, পুরো শহরটিকে ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার ফলে ২ লাখ বাসিন্দার চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে তাদের অভিযান চলছে এবং তা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। তবে বিবিসি’র পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আইডিএফ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

