ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সেমিনারে ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম জানিয়েছেন, ইরান সম্প্রতি পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত।
মোকাদ্দাম জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির তেহরান সফরকালে ইরানি কর্মকর্তারা এই প্রস্তাবের কথা জানিয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
একই অনুষ্ঠানে মোকাদ্দাম মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট বা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কেও কথা বলেন। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করা এই চুক্তিটি ইরান সমর্থন করবে কি না, তা নিয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, ইরান এই চুক্তিটি পর্যালোচনা করবে এবং যদি এটি ইতিবাচক হয় তবেই সমর্থন জানানো হবে।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর দাবি, এটি সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। তুরস্ক এরই মধ্যে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তাদের পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক এবং এটি ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। তুরস্ক ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে এবং পাকিস্তানও জানিয়েছে যে তাদের ভূমিকা কেবল রক্ষণাত্মক হবে।

