ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শনিবার টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হয়েছিল চেলসি। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পাশাপাশি দলের ২৪ বছর বয়সী তারকা কোল পালমারের আচরণে মারাত্মক হতাশ হয়েছেন সমর্থকেরা। ম্যাচের শেষভাগে মাত্র নয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পালমার। লাল কার্ড পাওয়ার পরপরই তিনি সোজা টানেল দিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছর পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল টটেনহ্যাম। সফরকারীদের এই জয়ে বড় ভূমিকা ছিল চেলসির আত্মঘাতী গোল ও মাতিস তেলের চমৎকার এক ফিনিশিং। আহত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের জায়গায় চেলসির একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন মাইক পেন্ডার্স। তবে ৭৭তম মিনিটে একটি কর্নার পাঞ্চ করে দূরে সরাতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করে বসেন পেন্ডার্স, যার ফলে চেলসি প্রথম গোলটি হজম করে।
সেই গোলের ঠিক ছয় মিনিট আগে, অর্থাৎ ৭১তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কোল পালমার। মাতেউস ফার্নান্দেসকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে রেফারি তাকে বুকিং দেন। পালমারের ধারণা ছিল, ফার্নান্দেস ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে পড়ে গিয়ে হাত দিয়ে বল ধরে চেলসির একটি সম্ভাব্য প্রতিআক্রমণ নস্যাৎ করেছেন। তবে মেজাজ হারিয়ে পালমার যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান, তাতে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখা থেকেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। কিন্তু এর মাত্র নয় মিনিট পর কনার গ্যালাঘারের পায়ে মাড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং পরিণামে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
ক্যারিয়ারের প্রথম লাল কার্ড দেখে পালমার মাঠ ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) চেলসি ভক্তদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এক সমর্থক লিখেছেন, "পালমার একজন আস্ত নির্বোধ।" অন্য এক ভক্ত মন্তব্য করেন, "আমাদের এই খেলোয়াড়ের পরিপক্ক হওয়ার জন্য এখনও অনেক পথ বাকি।" অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "সে আসলে এটাই চেয়েছিল, সে এখন ছুটিতে যেতে চায়।" এছাড়া আরও কয়েকজন সমর্থক পালমারের এই আচরণকে বোকামি আখ্যা দিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
এই লাল কার্ডের ফলে আগামী বুধবার কারাবাও কাপের চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুলের মুখোমুখি হতে পারছে না পালমার। তবে তার এই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যদি বাড়ানো না হয়, তবে আগামী শনিবারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচে তাকে ফের মাঠে দেখা যেতে পারে।
পালমারের এই বহিষ্কার চেলসির জন্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। গত মৌসুমে চেলসির ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড ছিল প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বাজে, যেখানে তাদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট ১১টি লাল কার্ড দেখতে হয়েছিল। চলতি মৌসুমে কোচ জাবি আলোনসো দলটির এই সমস্যা অনেকটাই শুধরে নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল, কিন্তু টটেনহ্যামের বিপক্ষে পালমারের লাল কার্ড সেই পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এলো। এই লাল কার্ডের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে শততম লাল কার্ড দেখার মাইলফলক স্পর্শ করল চেলসি। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে কেবল এভারটন (১১৩) ও আর্সেনাল (১১০) তাদের চেয়ে বেশি লাল কার্ড পেয়েছে।

