হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলটির শীর্ষ নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশে বর্তমানে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে সব দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের উগ্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ছাত্রশিবিরের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি এবং জেলা সার্কিট হাউসের ভেতর থাকা রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নেতারা এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিবৃতিতে অতীতে এনসিপির ওপর হওয়া অন্যান্য হামলার কথাও তুলে ধরা হয়। এর আগে ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা এবং সাভারে এনসিপির পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তারা। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে ছাত্রশিবির নেতারা দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বেপরোয়া আচরণ, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, হামলা, নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনক। এসব কর্মকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়। পরিশেষে, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের দুই শীর্ষ নেতা।

