রাশিয়া সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইদা-ভিরুমা অঞ্চলে প্রায় ১৫০টি বাংকার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে এস্তোনিয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা শঙ্কা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্টিন হেরেম।
এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ইআরআর (ERR)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাংকারগুলোর মধ্যে প্রায় ১০০টি সরকারি জমিতে এবং বাকি প্রায় ৫০টি ব্যক্তিগত বা পৌরসভার জমিতে নির্মাণ করা হবে। তবে প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠন কিংবা এগুলোর নির্দিষ্ট ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানাননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
সাম্প্রতিক সময়ে বাল্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এস্তোনিয়া এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি ও বেসামরিক সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে। ন্যাটো কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে রাশিয়া ড্রোন অনুপ্রবেশ, আকাশসীমা লঙ্ঘন, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে। এর জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলোও নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করে তুলছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে ন্যাটো তাদের পূর্ব সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি বাড়িয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুর দিকে এস্তোনিয়ার সামরিক বাহিনী তাদের একটি যুদ্ধপ্রস্তুত ব্রিগেড স্থায়ীভাবে রুশ সীমান্তের কাছে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। দেশটির ১ম ব্রিগেডকে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারের (৩১ মাইল) কম দূরত্বে সম্প্রসারিত একটি নতুন সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো রুশ আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা বাড়াতেই সামরিক বাহিনী পুনর্মোতায়েন ও সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করতে এই পদক্ষপ গ্রহণ করা হয়েছে।

