ফিলিপাইনের সেবু অঞ্চলের পুলিশ মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের সাবেক বাড়ি থেকে জব্দ করা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষার জন্য আদালতের পরোয়ানা হাতে পেয়েছে। ৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ছবি সংরক্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এই আইনি পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত সপ্তাহে মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র পুলিশের কাছে চারটি বাক্সে ভরা কিছু সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, হার্ড ড্রাইভ এবং পুরনো ভিএইচএস টেপ ছিল। তবে এসব ডিভাইস পরীক্ষা করার আগে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সেবুর কর্মকর্তাদের আদালতের অনুমতির প্রয়োজন ছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলোকে 'অসুস্থ মিথ্যা' বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেবু রিজিওনাল প্রসিকিউটর গ্রেম এলমিডো বিবিসিকে জানিয়েছেন, থমাস মার্কেল জুনিয়র এই বিষয়টি তদন্তের জন্য অত্যন্ত জেদ ধরেছেন এবং তিনি মনে করেন তার বাবার এর জবাব দেওয়া উচিত।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, ২০১৯ সালে থমাস মার্কেলের প্রথম স্ত্রী রোজলিন লাভলেস লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে এই অভিযোগগুলোর কথা উল্লেখ ছিল। ওই চিঠিটি সে সময় ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্সকেও দেওয়া হয়েছিল। রোজলিন লাভলেস, যিনি বর্তমানে মৃত, তিনি মেগানের দুই সৎ ভাই-বোনের মা এবং ১৯৭৫ সালে থমাস মার্কেলের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল।
মেগান মার্কেল ২০১৮ সাল থেকেই তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। বিবিসি জানতে পেরেছে, গত বছর মেগান তার বাবার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং তাকে জানান যে, তিনি ও কর্তৃপক্ষ জানে যে থমাস মার্কেল ছোট মেয়েদের ওপর নির্যাতন করেছেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেগান ওই চিঠির অস্তিত্ব নিশ্চিত করে তার গভীর উদ্বেগ ও ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি গভীরভাবে ব্যথিত… আমার চিন্তা সেই সব শিশুদের জন্য যারা হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" তিনি আরও জানান, তার বাবাকে সন্তানদের সংস্পর্শে আসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তিনি কেন নিয়েছেন, তা আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন।
এদিকে, থমাস মার্কেল জুনিয়র সংবাদমাধ্যম 'দ্য সান'-এর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন যে, এতদিন তিনি ভুল ব্যক্তিকে রক্ষা করেছেন এবং তিনি স্বীকার করেন যে গত নয় বছর ধরে তিনি ভুল মানুষের পক্ষ নিয়েছিলেন। গত বছর স্ট্রোকের পর থমাস মার্কেল সিনিয়র ফিলিপাইনে চলে যান এবং মে মাস পর্যন্ত সেবুতে বসবাস করছিলেন। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যেখানে তার পা কেটে ফেলার পর তিনি পুনরায় হাঁটার চেষ্টা করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই সরঞ্জামগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল তা শনাক্ত করার পরেই কেবল তারা কোনো ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে। শিশু যৌন শোষণের জন্য সেবুকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

