গত বছরের বন্ডি বিচে সংঘটিত প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে সিডনির রাজপথে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ কর্মকর্তাদের টহল শুরু হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের বিশেষায়িত 'আর্মড রেসপন্স কমান্ড' (এআরসি)-এর অধীনে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা সিডনির লুনা পার্কসহ জনাকীর্ণ পর্যটন এলাকা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং উপাসনালয়গুলোতে ভারী রাইফেল নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ নাগরিকদের জন্য এমন দৃশ্য বেশ নজিরবিহীন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, সশস্ত্র অপরাধীদের যেকোনো হামলা বা গুরুতর হুমকি দ্রুত প্রতিরোধ, দমন ও তাৎক্ষণিক মোকাবিলা করতেই এ টহল জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু ইভান্স বলেন, এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে জীবন রক্ষা করা। সিডনিজুড়ে পুলিশকে বিশেষ যানবাহনে চালিত ও রাইফেলধারী অবস্থায় দৃশ্যমান রাখতেই এআরসি চালু করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর পর এই বিশেষ কমান্ডে মোট ২৫০ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।
অস্ট্রেলিয়ার গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই গণ-গুলি বর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৪ ডিসেম্বর। বন্ডি বিচের সেই মর্মান্তিক হামলার পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সেমিটিক-বিরোধী মনোভাব মোকাবিলার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পরই দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র আইনে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয় এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হয়।
নতুন এই পদক্ষেপ সম্পর্কে এবিসি নিউজকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক বাসিন্দা এটিকে অস্বস্তিকর হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের অস্ত্রগুলো অনেক বড়। তবে অন্য এক নারী জানান, পুলিশের হাতে শক্তিশালী অস্ত্র দেখলে তিনি নিজেকে আরও নিরাপদ মনে করেন।
ইহুদি সম্প্রদায় পুলিশের এই বিশেষ ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছে। এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ান জুড়ির সহ-প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স রিভচিন বলেন, কোনো অস্ট্রেলীয়ই রাস্তায় সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ দেখতে চান না, তবে লাশের ব্যাগের দৃশ্য দেখার চেয়ে এটি অনেক ভালো।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া পুলিশের এই সশস্ত্রকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু উইথফোর্ড সর্বসাধারণের জন্য সুস্পষ্ট নিয়মকানুন, স্বাধীন তদারকি ও পুলিশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এই বিশেষ বাহিনীকে যাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করা হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন তিনি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ মন্ত্রী ইয়াসমিন ক্যাটলি সরকারের এই পদক্ষেপের সমর্থনে এবিসিকে বলেন, পুরো দেশজুড়েই সত্যটা হলো আমাদের বিশ্ব চিরতরে বদলে গেছে এবং আমরা আর কখনোই আগের মতো থাকতে পারব না।
উল্লেখ্য, বন্ডি বিচ হামলায় জড়িত অভিযুক্ত বন্দুকধারীদের একজন নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে ৭৮টি অপরাধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি হত্যা, ৪০টি হত্যাচেষ্টা এবং একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, হামলায় জড়িত তার বাবা ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

