সাইপ্রাসের দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত বিভেদ নিরসনের প্রচেষ্টায় নিজের অঙ্গীকার প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দ্বীপটিতে সফর করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যদিও এই সফর থেকে দ্রুত কোনো শান্তি চুক্তির প্রত্যাশা কম, তবুও তিনি আলোচনার পথ সুগম করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
গ্রিক সাইপ্রাস প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলাইডসের সঙ্গে আলোচনার পর গুতেরেস বলেন, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গ্রিক এবং তুর্কি সাইপ্রাসবাসীদের সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করব। এছাড়া তিনি তুর্কি সাইপ্রাস নেতা তুফান এরহুরমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং মঙ্গলবার ও বুধবার উভয় পক্ষের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
দীর্ঘ ১৬ বছরের মধ্যে জাতিসংঘের কোনো প্রধানের এটিই প্রথম সাইপ্রাস সফর। বর্তমানে সেখানে প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার নতুন প্রচেষ্টা চলছে। এর আগে ২০১৭ সালে গুতেরেসের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার বড় একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করে।
১৯৭৪ সালে গ্রিসে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে একটি ক্যু-এর পর তুরস্কের সামরিক অভিযানের ফলে দ্বীপটি বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বহুবার আলোচনা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। ১৯৮৩ সালে তুর্কি সাইপ্রাস দ্বীপের উত্তরাংশে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও কেবল তুরস্কই তা স্বীকৃতি দিয়েছে, যারা সেখানে এখনো ৩৫ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রেখেছে। ২০০৪ সালে সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলেও কেবল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষিণাংশই এর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করে থাকে।
সাইপ্রাস সরকারের মুখপাত্র কনস্টানটিনোস লেটিম্বিওটিস গুতেরেসের এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, মহাসচিব তাঁর ব্যক্তিগত সময় এই সফরের জন্য ব্যয় করেছেন, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

