ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত শহর ওলেশকিতে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে কয়েকদিনের জন্য কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানান্তরের সুযোগ করে দেয়। গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অস্ত্রবিরতি পরবর্তীতে খেরসন অঞ্চলের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত করা হয়েছিল, যাতে মানবিক সহায়তার কনভয়গুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
মেলানিয়া ট্রাম্প জানান, এই যুদ্ধবিরতির ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচলের স্বাধীনতা, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সুবিধা পেয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, এই যুদ্ধবিরতি বাসিন্দাদের ওপর থেকে হামলার ভয় দূর করে তাদের মর্যাদা নিশ্চিত করেছে এবং ওলেশকিকে স্থায়ী শান্তির সূচনাবিন্দু হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার মানবিক মিশনটি শেষ হওয়ার পর রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা জানান, উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীই এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলেছে। তিনি এই ধরনের সমন্বয়কে স্থায়ী প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎসের সাথে সহযোগিতা প্রমাণ করেছে যে কঠিন পরিস্থিতিতেও বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তা করা সম্ভব।
শনিবার লুবিনেৎসেও এই চুক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে এটিই দুই পক্ষের মধ্যে পালন করা দীর্ঘতম যুদ্ধবিরতি। এই যৌথ অভিযানের আগে নির্ধারিত ট্রানজিট রুটগুলোতে ব্যাপক মাইন অপসারণ কার্যক্রম চালানো হয়। এর ফলে মানবিক কনভয়গুলো কেন্দ্রীয় জেলা হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং ত্রাণ বিতরণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা নিশ্চিত করেছেন যে, ওলেশকির এই মিশনটি ভবিষ্যতে আস্থা তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিয়েভ এই প্রক্রিয়ায় সদিচ্ছা বজায় রেখেছে এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।

