আগামী শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চাও ফ্রায়া নদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় নৌকা শোভাযাত্রা বা 'রয়েল বার্জেস প্রসেসশন'। সুসজ্জিত ৫২টি কাঠের রাজকীয় নৌকার একটি বিশাল বহর রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন, রানী সুথিদা এবং রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঐতিহাসিক 'ওয়াত অরুন রাতচাওয়ারারাম' মন্দিরে নিয়ে যাবে।
এই বিশাল ও রাজকীয় আয়োজনের জন্য গত জুন মাস থেকে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন থাই রয়্যাল নেভির ২,২০০ জন নৌসেনা। নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে দাঁড় টানার কলাকৌশল শেখার পর জুলাই মাসের শেষের দিকে তারা নদীতে মূল মহড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে অক্টোবরের শেষভাগে দুটি পূর্ণাঙ্গ ড্রেস রিহার্সেল বা চূড়ান্ত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা নদী তীরের অসংখ্য দর্শককে মুগ্ধ করে।
শোভাযাত্রায় বহরের নির্ধারিত পাঁচটি কলাম ও তিনটি লাইনের সুনির্দিষ্ট গঠন অক্ষুণ্ণ রাখতে নৌসেনাদের নিখুঁত চালচলন রপ্ত করতে হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের গাইতে হয়েছে প্রথাগত নৌকার গান। ঐতিহ্যবাহী এসব গান যেমন দাঁড় টানার গতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করে, তেমনই থাইল্যান্ডের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্ট বা চারুকলা বিভাগ কাঠের নৌকাগুলোর ঐতিহাসিক শিল্পসুষমা ও সূক্ষ্ম অলংকরণ অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি আয়োজন উপলক্ষে প্রতিটি নৌকার নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নতুন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। বহরে থাকা বিশেষ চারটির মূল রাজকীয় নৌকা তাদের অলংকরণ ও নকশার জন্য আলাদা দৃষ্টি কাড়ে। এর মধ্যে একটি নৌকার প্রথমাংশে সোনালী রঙের পৌরাণিক রাজহাঁসের মস্তক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যান্য প্রধান নৌকাগুলোতে রয়েছে বহু মাথাযুক্ত পৌরাণিক নাগ সাপ এবং পৌরাণিক পাখির পিঠে চেপে হিন্দু দেবতা নারায়ণের সওয়ার হওয়ার রূপায়ণ।
রাজকীয় বিশেষ মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখতেই এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ বছর রানি সুথিদার জন্য এটি একটি শুভ ও বিশেষ বছর। গত জুন মাসে তিনি ৪৮ বছরে পা দিয়েছেন, যা থাই হিসাব অনুযায়ী তাঁর জীবনের চতুর্থ ১২ বছরের চক্র পূরণকে নির্দেশ করে। এর আগে ২০২৪ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের ৭২তম জন্মবার্ষিকী ও ষষ্ঠ ১২ বছরের চক্র উদযাপনে সর্বশেষ এই রাজকীয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

