মার্কিন সামরিক বাহিনী সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা। একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, একটি মার্কিন বিমানের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের কেশম দ্বীপ।
উত্তরের হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত কেশম দ্বীপটি বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের ওপর ইরানের নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তেহরান তাদের বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রেখেছে এবং যতক্ষণ না এই সামরিক আগ্রাসন সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এই অধিকার চর্চা করবে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান তাদের ভূখণ্ডে চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সপ্তাহান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক ফোনালাপে ইরানের বিরুদ্ধে আরও ধারাবাহিক হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প এই কথোপকথনের বিষয়টি স্বীকার করলেও আলোচনার বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এই যুদ্ধ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলের সংসদীয় নির্বাচন—উভয়ের ওপরই বড় প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের হুমকির কারণে সৃষ্ট ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির জনসমর্থন হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রাপ্ত ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের নতুন হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের অন্তত ৪৭.১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা শুধুমাত্র সামরিক ব্যয়। এই হিসেবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

