অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালত ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি আইনি চ্যালেঞ্জের শুনানি শুরু করেছে। গত বছর কার্যকর হওয়া এই আইনের আওতায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, কিক, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস, টিকটক, এক্স, ইউটিউব এবং টুইচের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের অ্যাকাউন্ট থাকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাতজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই দুই দিনের শুনানি বুধবার শেষ হবে।
প্রথম চ্যালেঞ্জটি দায়ের করেছে সিডনি-ভিত্তিক অধিকার গোষ্ঠী ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট। তাদের দাবি, এই আইনটি অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে বর্ণিত রাজনৈতিক যোগাযোগের স্বাধীনতার অধিকারকে খর্ব করছে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি এসেছে মার্কিন অনলাইন ফোরাম রেডিট থেকে। রেডিট যুক্তি দিয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা গোপনীয়তা এবং রাজনৈতিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে যে, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সাথে তাদের একই কাতারে ফেলা উচিত নয়।
মামলাটি দায়েরের সময় সিডনির ১৫ বছর বয়সী নোয়াহ জোনস এবং ম্যাসি নেল্যান্ডকে বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে আইনি খরচের দায়বদ্ধতার আশঙ্কায় পরে তাদের বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে ১৬ বছর বয়সী নোয়াহ জোনস আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, সরকার শিশু নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আসলে সেন্সরশিপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তরুণরা কী দেখবে তার ওপর সরকার ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।
নোয়াহের মা রেনি জোনস জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও সরকারের এই আইন সমস্যার সমাধান নয়। তার মতে, এই নিষেধাজ্ঞা তরুণদের অনলাইনে নিরাপদ থাকা এবং ঝুঁকি শনাক্ত করার বিষয়ে অজ্ঞ করে রাখবে। তিনি চান তার ছেলে দায়িত্বশীল এবং বিপদ শনাক্ত করতে সক্ষম একজন তরুণ হিসেবে বেড়ে উঠুক।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনেক শিশু এখনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকায় আইনটি আরও শক্তিশালী করার কথা ভাবা হচ্ছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের জুন মাসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮৫ শতাংশই নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সরকারের নিজস্ব গবেষণায় দেখা গেছে, ডিসেম্বরের পর থেকে ১০ জনের মধ্যে ৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটকে অ্যাকাউন্ট বজায় রেখেছে।
নির্ধারিত ১০টি প্ল্যাটফর্ম যদি শিশুদের অ্যাকাউন্ট অপসারণের জন্য যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাদের ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। শুনানিতে উপস্থিত যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, সরকার অস্ট্রেলীয় শিশুদের ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকার মৌলিক অধিকার রক্ষার পক্ষে লড়ছে এবং এই আইন একটি আদর্শিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

