ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কাদেমি মসজিদ ভাঙার সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সংস্কৃতি ও মানুষের ওপর আঘাত হানছে।
ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নাম থাকার অভিযোগে ভারতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম চালানো হয়। তবে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর ভি কারনান জানিয়েছেন, এই যাচাইয়ে কোনো বিদেশি নাগরিক বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই তথ্য তুলে ধরে ওয়াইসি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার এই বক্তব্য বিজেপি ও সংঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মতে, অনুপ্রবেশকারীর অজুহাতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মুসলিমদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে দিনমজুরদের কর্মসংস্থান হারাতে হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লির কৃষি ভবন এলাকায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন কাদেমি মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও সরব হয়েছেন ওয়াইসি। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট নির্মাণের জন্য মসজিদটি সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টে দাবি করেছে, সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে মসজিদটির অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই যুক্তির জবাবে ওয়াইসি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভূমিপূজার মাধ্যমে হতে পারে, তবে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান কেন ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী হবে?
ওয়াইসি জানান, ১৯১২ সালের আগেই মসজিদটি ওই স্থানে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে লুটিয়েনস দিল্লি নির্মাণের সময় জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মসজিদটি অধিগ্রহণের বাইরে রাখা হয়েছিল। তিনি মসজিদটিকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অভিহিত করে এর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এছাড়া মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন ওয়াইসি। বিশেষ করে মুসলমানদের ‘আব্দুল’ বলে কেবল পাংচার সারানোর কাজে সীমাবদ্ধ রাখার মতো বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

