ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার সাবেক গভর্নর ও দীর্ঘদিনের মার্কিন সিনেটর জে রকফেলার ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। রকফেলার পরিবারের রাজনৈতিক রাজবংশের শেষ সদস্য হিসেবে পরিচিত জে রকফেলার বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে তার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডব্লিউইটিএ (WETA)-এর বহিঃস্থ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মেরি স্টুয়ার্ট। রকফেলারের স্ত্রী শ্যারন এই পাবলিক ব্রডকাস্টিং স্টেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা জে রকফেলার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশের অন্যতম দরিদ্র অঙ্গরাজ্যে জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে দারিদ্র্যবিরোধী প্রোগ্রামের কর্মী হিসেবে তিনি প্রথম ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় আসেন। ১২ বছর পর তিনি রাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হন এবং দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর টানা ৩০ বছর মার্কিন সিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে অবসরের সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি এর চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ ক্যারিয়ার কল্পনা করতে পারতেন না।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণকারী জন ডি. রকফেলার চতুর্থ নামে পরিচিত এই রাজনীতিকের প্রপিতামহ ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জন রকফেলার। তার পিতা জন ডি. রকফেলার তৃতীয় ছিলেন একজন পরিচিত সমাজসেবী এবং তার চাচারা আরকানসাস ও নিউ ইয়র্কের রিপাবলিকান গভর্নর ছিলেন। তবে জে রকফেলার পারিবারিক ঐতিহ্য ভেঙে ডেমোক্র্যাটিক দলের রাজনীতির পথ বেছে নেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার হাউস অফ ডেলিগেটস-এ নির্বাচিত হন।
১৯৭২ সালের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান আর্চ এ. মুর জুনিয়রের কাছে পরাজিত হওয়াকে তিনি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এরপরও তিনি রাজ্য ছেড়ে যাননি, যা তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল বলে তিনি মনে করতেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ওয়েসলিয়ান কলেজের প্রেসিডেন্ট হন এবং ১৯৭৬ সালের গভর্নর নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। গভর্নর হিসেবে তিনি রাজ্যের অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এগুলো খুব আকর্ষণীয় বিষয় না হলেও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
১৯৮০ সালে আর্চ মুরের সাথে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার পর, ১৯৮৪ সালে তিনি মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হন। সে সময় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান বিশাল ব্যবধানে জয়ী হলেও রকফেলার তার আসন ধরে রাখেন। তিনি তার ব্যক্তিগত ১৫ কোটি ডলারের সম্পদের একটি বড় অংশ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করেছেন, যা নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা ছিল। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে জন রেসের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য তিনি ৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন।
সিনেটর রবার্ট সি. বার্ডের বিশাল প্রভাবের ছায়ায় থেকেও তিনি নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। সিনেটের বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও পরিবহন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম (CHIP) তৈরিতে তার বড় ভূমিকা ছিল, যা দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সহায়তা করে। এছাড়া তিনি গোয়েন্দা ও ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইরাক যুদ্ধের অনুমোদনের জন্য ২০০২ সালের ভোট নিয়ে তিনি পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। জাপানের সাথে ব্যবসার প্রসারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার ফলস্বরূপ ১৯৯৬ সালে টয়োটা ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় তাদের ইঞ্জিন পার্টস প্ল্যান্ট স্থাপন করে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ২,২০০ কর্মী কাজ করছেন।

