ব্রাজিলিয়ান পুলিশ বর্তমানে একটি তদন্ত চালাচ্ছে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছাড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা এবং ইসরায়েলের কোনো গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তাকে সহায়তা করেছিল কি না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে একজন ঊর্ধ্বতন ব্রাজিলিয়ান কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বলসোনারোকে আর্জেন্টিনা সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়া ভ্যানের পিছু নিতে ইসরায়েলের মোসাদ গোয়েন্দা সংস্থার একজন সাবেক এজেন্টকে দেখা গিয়েছিল। লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে নির্বাচনে পরাজিত হওয়া বলসোনারো অবশ্য তার দেশত্যাগের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি যে পথ দিয়ে এসেছি, তা নিয়ে কোনো কথা বলব না।" যুক্তরাষ্ট্র তাকে দেশত্যাগে সাহায্য করেছিল কি না, এমন প্রশ্নের উত্তর দিতেও তিনি রাজি হননি।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘটনায় ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততার জল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, "মার্কিন সরকার সরাসরি এই ধরনের কোনো পদক্ষেপে জড়িত ছিল না।"
বলসোনারোর দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন কারণ ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না এবং তিনি তার রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন। তিনি বলেন, "আমেরিকার প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যকর। অথচ ব্রাজিলে সেগুলো আর কাজ করছে না।" তিনি আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একই ধারণা পোষণ করেন। বলসোনারোর ভাষ্যমতে, "ট্রাম্প নিশ্চিত যে ব্রাজিল এখন আর পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র নয়।"
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা বলসোনারো ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের প্রেসিডেন্টের মূল্যায়নকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বলেন, "আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, তিনি যা বলছেন তা জানেন না।" তার দাবি, নির্বাচনে কোনো জালিয়াতি হয়নি, তা ১০০ শতাংশ নিশ্চিতভাবে বলার ক্ষমতা সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের প্রেসিডেন্টের নেই।
বলসোনারো জানান, তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো মানি লন্ডারিং তদন্তের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে ডি মোরায়েসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশের পর ভীত হয়ে পড়েছিলেন। দেশ ছাড়ার আগে বাবার সাথে শেষ কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার বাবা অশ্রুসজল চোখে বলেছিলেন, "তুমি তো জানোই এটা কোথায় গিয়ে ঠেকছে।" জবাবে তিনি বাবাকে বলেছিলেন, "আমি জানি, এবং আমি জানি আমার কী করতে হবে।" উল্লেখ্য, জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
তদন্তের বিষয়ে ব্রাজিলিয়ান পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফ্লাভিও বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তাদের প্রত্যাশা খুবই কম। একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাকে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাকে "শূন্য" বলে মন্তব্য করেছেন।

