
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতা (Ceuta) সীমান্তে তৈরি হয়েছে তীব্র অভিবাসন সংকট।
মরক্কো সীমান্ত ঘেঁষে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশের আশায় হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশীর উপস্থিতি সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতিকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সীমান্ত জুড়ে এখন প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে নাটকমীয় ও বিপজ্জনক সব দৃশ্য। কেউ উত্তাল সাগরের ঢেউ পেরিয়ে সাঁতরে স্প্যানিশ উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ উঁচু কাঁটাতারের বেড়া টপকে ঢুকছেন ভূখণ্ডে। স্প্যানিশ নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি ও টহল সত্ত্বেও অভিবাসীদের এই ঢল থামানো যাচ্ছে না।
নেপথ্যে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়
স্পেন সরকার জানিয়েছে, দেশের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় এই সীমান্ত সংকটকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি সাঁতরে বা অন্য যেকোনো উপায়ে স্পেনের ভূখণ্ড স্পর্শ করতে পারেন, তবে তাকে আর তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে ফেরত বা ‘পুশব্যাক’ করা যাবে না। তাকে স্প্যানিশ আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এই রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপের দরজায় পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় ও আইনি পথ হিসেবে অভিবাসীরা এই পথটিকেই বেছে নিচ্ছেন।

পুরোনো রুটে নতুন সংকট
আফ্রিকার ভূখণ্ডে থাকলেও সেউতা ও মেলিলা মূলত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। ফলে ভৌগোলিকভাবে এটি ইউরোপের সঙ্গেই সংযুক্ত। নিজ দেশে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে আফ্রিকা মহাদেশের হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে এই সীমান্তকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর সীমান্ত প্রহরা কিংবা কাঁটাতার দিয়ে অভিবাসনের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়া অসম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও দেশের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে স্পেনের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
স্পেন সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে একদিকে নিজেদের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করা, আর অন্যদিকে উচ্চ আদালতের রায় ও আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিকে ধরে রাখা।
