গ্লাসগোর স্কটসটাউন স্টেডিয়ামে কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন শ্রীলঙ্কান অ্যাথলেট রুমেশ থারাঙ্গা পাতিরাগে। ২৩ বছর বয়সি এই তরুণ জ্যাভলিন থ্রো বা বর্শা নিক্ষেপ ইভেন্টে শ্রীলঙ্কার প্রথম অ্যাথলেট হিসেবে স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। ৮৯.৭৫ মিটার দূরত্বে বর্শা নিক্ষেপ করে তিনি এই সাফল্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিযোগিতার ফাইনালে রুমেশের শুরুটা অবশ্য খুব একটা ভালো ছিল না। তার প্রথম থ্রোটি ফাউল হয়। অন্যদিকে ভারতের নীরজ চোপড়া প্রথম থ্রোয়ে ৮০.৯৭ মিটার এবং দ্বিতীয় থ্রোয়ে ৮৫.৮৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে স্বর্ণের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হন। তবে দ্বিতীয় থ্রোতেই ৮৯.৭৫ মিটারের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেন রুমেশ। এরপর ভারতের ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসের স্বর্ণপদক বিজয়ী নীরজ চোপড়া পরবর্তী চারটি থ্রোয়ে চেষ্টা করেও রুমেশের এই দূরত্ব টপকাতে পারেননি।
নিজের প্রথম বড় থ্রোতেই স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কৌশলগত কারণে রুমেশ তার বাকি চারটি থ্রো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউল করেন। শেষ পর্যন্ত তার ৮৯.৭৫ মিটারের থ্রোটিই তাকে সোনার পদক এনে দেয়। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ ২০ বছরের স্বর্ণপদক জয়ের খরা কাটল। এর আগে ২০০৬ সালে ভারোত্তোলনে চিন্থানা গীথাল ভিদানাগে শ্রীলঙ্কাকে স্বর্ণ এনে দিয়েছিলেন। তবে অ্যাথলেটিকসের ইতিহাসে এটি শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ ৭৬ বছর পর প্রথম কমনওয়েলথ স্বর্ণপদক।
রুমেশ থারাঙ্গা পাতিরাগের খেলার ক্যারিয়ারের শুরুর গল্পটা কিন্তু অ্যাথলেটিকস দিয়ে নয়। তিনি মূলত শ্রীলঙ্কার একজন সম্ভাবনাময় তরুণ ফাস্ট বোলার ছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে ঘণ্টায় ১৩৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে তিনি নজর কেড়েছিলেন। সে সময় তার সতীর্থ ঈশান মালিঙ্গা তার চেয়ে কিছুটা বেশি গতিতে বল করতেন, যিনি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার জাতীয় দল ও আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন। ২২ গজের মাঠ থেকে উঠে এসে জ্যাভলিনের মঞ্চ কাঁপানো রুমেশ এখন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়াঙ্গনের নতুন অনুপ্রেরণার নাম।

