কুয়েত তার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের লক্ষ্যে সৌদি আরব এবং অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে এড়াতেই এই বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুয়েতের তেলমন্ত্রী তারেক সুলাইমান আল-রুমি।
জাপানের সংবাদ সংস্থা কিয়োডোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-রুমি বলেন, প্রস্তাবিত একটি রুটের মাধ্যমে কুয়েতকে সৌদি আরবের ওপর দিয়ে লোহিত সাগর বা ওমানের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। অন্য আরেকটি রুটের মাধ্যমে কুয়েতকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তেলমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই প্রকল্পটির উন্নয়ন ঘটানো হবে। বিশাল এই প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা বর্তমানে সবচেয়ে ভালো এবং সাশ্রয়ী বিকল্পটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।"
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার কারণে কুয়েতের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আল-রুমি উল্লেখ করেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু তেল সংরক্ষণাগার পুনর্নির্মাণ করতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার আগে কুয়েত ছিল জাপানের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ।
উপসাগরীয় অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত কুয়েত এই কৌশলগত জলপথটি অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় তেল রপ্তানি করতে পারছে না। আল-রুমি বলেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত এই প্রণালী বন্ধ থাকবে, ততক্ষণ আমাদের তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় থাকবে।"
জাপানকে কুয়েতের অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের অন্যতম কৌশলগত গ্রাহক হিসেবে অভিহিত করে আল-রুমি জানান, বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোতে কৌশলগত তেলের মজুদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
কুয়েত এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানান তেলমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কুয়েত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালায়নি। তিনি আরও যোগ করেন, "তেল খাতসহ আমাদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে।" এই সংকটের পর কুয়েত তাদের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি জানান।

