জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুলাওয়েতে মঙ্গলবার এক শোকাবহ পরিবেশে যুক্তরাজ্যের বাড়িতে নিহত মা ও তার দুই মেয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব এবং স্থানীয় কমিউনিটির লোকজন তাদের শেষ বিদায় জানাতে চার্চে সমবেত হন। সাদা কফিনে শায়িত ছিল ৪২ বছর বয়সী নোথাবো জানডিল শুমা এবং তার দুই মেয়ে ১৫ বছর বয়সী নাতালি ও ৫ বছর বয়সী নালার মরদেহ।
পরিবারের মুখপাত্র থিওফিলাস কুমালো শোকাহতদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের এই চলে যাওয়া এক গভীর নীরবতা তৈরি করেছে, যা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার সান্ত্বনাতেই পূরণ হতে পারে। তিনি নিহত দুই মেয়েকে 'ঈশ্বরের ছোট ফুল' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, মা তাদের আত্মবিশ্বাসী, শিক্ষিত এবং ধর্মপ্রাণ তরুণী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। শোকের এই অসহনীয় যন্ত্রণাকে পরিবারটি 'এক দুঃসহ যাত্রা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
গত ৭ জুলাই লন্ডন থেকে উত্তরের বেডফোর্ড এলাকার একটি বাড়িতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ব্রিটিশ পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে মাথায় আঘাতের কারণে।
নিহতদের স্বামী ও বাবা, ৪৫ বছর বয়সী এনদোদানা মিখানাইসি শুমা, ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে যান। ইন্টারপোল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের যৌথ অভিযানে গত মাসে জোহানেসবার্গ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার আদালতে তার বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পুলিশ তাদের মতে তিনি নিজের আত্মহত্যার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত তাকে যুক্তরাজ্যে হস্তান্তরের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

