গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ কঙ্গো নদীতে চলাচলরত 'ইংফেং ২' নামের একটি নৌকা আটক করেছে। নৌকাটিতে থাকা ২৫৫ জন যাত্রীর শরীরে ইবোলা ও কলেরা সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চীনা মালিকানাধীন এই জাহাজটি রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছানোর আগেই বেন্দে বেন্দে বন্দরের কাছাকাছি থামানো হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রজার কাম্বা জানিয়েছেন, মোঙ্গালা প্রদেশে নৌকাটি থেকে নেমে যাওয়া এক যাত্রী হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ওই যাত্রীর জ্বর ও ডায়রিয়া ছিল। এছাড়া নৌকাটির আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, তিন বছর বয়সী এক শিশু এবং এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে নৌকায় উঠেছেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার স্থাপন করেছেন। মন্ত্রী রজার কাম্বা সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত কারও রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি এবং ২১ দিনের ইনকিউবেশন সময় শেষ হওয়ার পর কারও সংক্রমণের সম্ভাবনা কম।
কাম্বা আরও জানান, জাহাজটি উত্তর-পশ্চিম ডিআর কঙ্গোর মোঙ্গালা থেকে ২২ দিন আগে রওনা হয়েছিল। যেখানে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো কেস পাওয়া যায়নি। নৌকাটি কিনশাসার দিকে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীকে ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড অনুযায়ী জাহাজটিকে কিনশাসা থেকে দূরে কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোতে ১৫ মে থেকে ১৭তম বারের মতো ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটি বিরল 'বুন্দিবুগিও' প্রজাতির ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেখা যায়নি। এই ভাইরাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই, যদিও যুক্তরাজ্যে প্রথম মানব ট্রায়াল চলছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩,৯৭৩ জন আক্রান্ত এবং ১,৮০১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে ১৭,০০০-এর বেশি মানুষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ৫টি প্রদেশে ৬৭৪ জন রোগী আইসোলেশনে বা চিকিৎসাধীন আছেন। কিনশাসায় এই ভাইরাসের মোকাবিলায় নজরদারি ও জরুরি সেবা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

