চট্টগ্রাম নগরীর ৮০ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল এবং অধিকাংশ বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পার্কিং সুবিধা নেই বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সিডিএ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করলে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই টিমের সঙ্গে স্বয়ং সিডিএ চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে পার্কভিউ হাসপাতাল, ইবনে সিনা, ডেল্টা হাসপাতাল, ডক্টরস ল্যাব, চিটাগং গ্রামার স্কুল ও চিটাগং আইডিয়াল স্কুলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইমারত বিধিমালা ও অনুমোদনসংক্রান্ত মারাত্মক অসংগতি পাওয়া গেছে।
অভিযানে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠান আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে সেখানে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। আবার কোথাও পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রোগী, তাদের স্বজন ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গাড়ি বাধ্য হয়ে সড়কেই রাখতে হচ্ছে, যা আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু ভবনে জরুরি বহির্গমন পথ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থারও চরম ঘাটতি লক্ষ্য করেছে সিডিএ।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, চিটাগং গ্রামার স্কুলে ভর্তির অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার্থীর নিজস্ব গাড়ি থাকতে হবে। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর গাড়ি রাখার মতো কোনো পার্কিং স্পেস তাদের নেই। আইডিয়াল স্কুলসহ অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের চিত্র একই রকম। অনেক জায়গায় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়নি এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সড়কের ওপর অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে নগরবাসীকে তীব্র যানজট পোহাতে হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তাদের অবশ্যই নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস বা অনুমোদিত ভবনে কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন আরও জানান, চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য ও যানজটমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। এই লক্ষ্য অর্জনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
এর আগে সিডিএ তাদের অভিযানে মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টার, ন্যাশনাল হসপিটাল ও ম্যাক্স হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে পার্কিং না থাকার সত্যতা পেয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে।

