বুলগেরিয়ার সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো ধরনের ইচ্ছাকৃত সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জি তিখি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী বুলগেরিয়ার দিকে কোনো লক্ষ্যবস্তু ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচালনা করেনি। এই ঘটনার পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে কিয়েভ বুলগেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, বিস্ফোরিত ড্রোনটি ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি মডেল। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বুলগেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন।
বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ জানিয়েছেন, ড্রোনটি কৃষ্ণসাগরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রোমানিয়া সীমান্তের কারদাম ক্রসিংয়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। এটি ট্রান্স-বলকান গ্যাস পাইপলাইনের কম্প্রেসার স্টেশন থেকে মাত্র ১,০০০ মিটার দূরে অবস্থিত। বিস্ফোরণের পর ড্রোনটি একটি সূর্যমুখী ক্ষেতে আছড়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী রাদেভ এক সরকারি ভিডিও বার্তায় বলেন, ড্রোনটি কোনো শখের খেলনা ছিল না, বরং এটি একটি বড় ড্রোন ছিল। তিনি জানান, ড্রোনটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল, যা দূর থেকেও শোনা গেছে এবং বিস্ফোরণের ফলে কালো ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। রোমানিয়ার সীমান্ত পুলিশ ড্রোনটির শব্দ রেকর্ড করেছে এবং বুলগেরিয়ার সীমান্ত টহল দল বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখতে পেয়েছে।
রাদেভ আরও জানান, প্রতিবেশী কোনো দেশই ড্রোনটিকে শনাক্ত করতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের ড্রোন শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে এ ধরনের ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। রোমানিয়াও ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকবার ড্রোন অনুপ্রবেশের শিকার হয়েছে এবং জুলাই মাসের শেষে রাশিয়ার দূতাবাসের এক কর্মীকে বহিষ্কার করেছে।

