আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের এক বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত আইরিশ অপরাধী ড্যানিয়েল কিনাহানকে দুবাই থেকে আয়ারল্যান্ডে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত তার প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে করা আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পর, রবিবার সন্ধ্যায় একটি আইরিশ এয়ার কর্পসের বিমানে তাকে ডাবলিনের উপকণ্ঠে একটি সামরিক বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়।
৪৯ বছর বয়সী কিনাহানকে সরাসরি ডাবলিনের স্পেশাল ক্রিমিনাল কোর্টে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি একটি সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীকে পরিচালনার অভিযোগের মুখোমুখি হবেন। এরপর তাকে রাজধানী থেকে প্রায় ৯০ মাইল (১৪৫ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন পোর্টলুইস কারাগারে রাখা হবে। আয়ারল্যান্ডের স্পেশাল ক্রিমিনাল কোর্ট মূলত সংগঠিত অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদের মামলাগুলো পরিচালনা করে, যেখানে কোনো জুরি ছাড়াই তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেন।
কিনাহানকে বিচারের মুখোমুখি করতে বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইরিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই-এর তথ্যমতে, এই নিরাপত্তা বহরে সশস্ত্র পুলিশ, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং কারাগারের বিশেষ সুরক্ষা দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের পরিবহনের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ ভ্যানও সংগ্রহ করেছে। এই কঠোর সতর্কতার কারণ হলো কিনাহান গ্যাংয়ের সাথে অন্য একটি আইরিশ অপরাধী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কিনাহান অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ আয়ারল্যান্ড ও স্পেনে এক গ্যাং যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, যাতে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত এক দশকে আইরিশ পুলিশ ব্রিটেন, স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এই গ্যাংয়ের সদস্যদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, কিনাহান গ্যাং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেনসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদক ও অস্ত্র ইউরোপে পাচার করত এবং বৈধ ব্যবসার আড়ালে মুনাফা পাচার করত।
মার্কিন ট্রেজারির ভাষ্যমতে, কিনাহান দুবাই থেকে গ্যাংয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তিনি কারাগারে থাকা গ্যাং সদস্যদের অর্থ প্রদানের নির্দেশও দিতেন। ২০২২ সালের মার্চ মাসে এই গ্যাংয়ের ব্রিটিশ শাখার প্রধান থমাস 'বোম্বার' কাভানাগকে মাদক পাচারের দায়ে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আরও দুই ব্যক্তিকে ২০ বছর এবং ১৯ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের সময় পুলিশ অ্যাসফল্ট অপসারণের যন্ত্রের ভেতর থেকে ১৫ কেজি কোকেন এবং ২২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছিল।
২০১৯ সালে পুলিশ যখন তার সম্পত্তিতে অভিযান চালায়, তখন তারা প্রচুর অস্ত্র এবং আমিরাতি দিরহাম, ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রায় ৩৫,০০০ পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করে। অপরাধ সংস্থাটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

