নেটফ্লিক্সের নতুন একটি তথ্যচিত্রে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম কোচিং অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করেছেন হোসে মরিনহো। সেখানে তিনি তৎকালীন লস ব্লাঙ্কোস খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে রিয়াল মাদ্রিদের সেই দলটি ছিল দারুণ, তবে তাদের মানসিক দিকটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
মরিনহো দাবি করেছেন যে ক্লাবের তৎকালীন অধিনায়ক ইকার কাসিয়াসের সাথে প্রথম কথোপকথনের পরই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে খেলোয়াড়রা বেশ 'spoilt' বা আদুরে স্বভাবের। মরিনহোর বর্ণনায়, কাসিয়াস প্রথমবার তার কাছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি ছুটির আবেদন করেছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি প্রশিক্ষণের সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, কারণ মাদ্রিদের রাস্তায় তখন যানজট থাকে। তৃতীয়বার কাসিয়াস প্রস্তাব দেন যে, ম্যাচের দিন খেলোয়াড়রা হোটেলে না থেকে সরাসরি স্টেডিয়ামে দেখা করতে চান। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মরিনহো উপলব্ধি করেন যে তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
২০১২-১৩ মৌসুমে মরিনহোর সাথে কাসিয়াসসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই মৌসুমে কাসিয়াসের খেলার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল এবং তিনি মাত্র ১৯টি লিগ ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পান। অন্যদিকে, মৌসুম শেষে কোনো শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়ায় মরিনহোকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
৬৩ বছর বয়সী এই কোচ বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সাথে কাসিয়াসের ঘনিষ্ঠতাকে ভালো চোখে দেখেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যকার লড়াইকে তিনি যুদ্ধের মতো দেখেন, তাই জাতীয় দলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও ক্লাবের ক্ষেত্রে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।
এই তথ্যচিত্রে কাসিয়াস নিজেও মরিনহোর সাথে তার সম্পর্কের তিক্ততা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাদের মধ্যকার সম্পর্কটি ছিল বেশ 'শীতল' এবং এক পর্যায়ে তা চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডার সামি খেদিরা, যিনি মরিনহোর কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন, তিনি মন্তব্য করেছেন যে এই দুইজনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব পুরো দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

