ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টাকারী একটি কার্গো জাহাজের স্টিয়ারিং গিয়ার অচল করতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের একটি এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে পানামার পতাকাবাহী 'এমভি ভেলা নোভা' নামের জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটির বেসামরিক ক্রুরা মার্কিন বাহিনীর বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হামলার পর জাহাজটি আর ইরানের দিকে যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে তেহরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল এবং মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তারা জ্বালানি তেল পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো, যার ফলে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন অবরোধ এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। গত ১১ আগস্ট পর্যন্ত সেন্টকম অবরোধ অমান্য করার চেষ্টাকারী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে, ৩টি অবাধ্য জাহাজ অচল করেছে এবং ২টি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে। তবে মঙ্গলবারের এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা সেন্টকমের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে লোহিত সাগরে অপর এক পৃথক ঘটনায় ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় একটি কার্গো জাহাজে ৬ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। হুথিদের দাবি, তারা এমন একটি জাহাজে আঘাত হেনেছে যা সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল। যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজে হুথিদের এটিই প্রথম প্রাণঘাতী হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

