সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখে।
মঙ্গলবার দোহায় এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করে এমন যেকোনো আঞ্চলিক সহযোগিতাকে কাতার স্বাগত জানায়। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে কাতারের কৌশলগত সম্পর্ক এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধন রয়েছে, যা অভিন্ন গন্তব্য ও সাধারণ উদ্বেগের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
আল-আনসারি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব, যার জন্য প্রয়োজন আঞ্চলিক সমন্বয় ও সহযোগিতা। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো সহযোগিতামূলক প্রতিরক্ষা কাঠামোকে কাতার ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে, সোমবার কুয়েত এবং মঙ্গলবার বাহরাইনও এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছিল।
গত শুক্রবার পবিত্র নগরী মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা হয়েছে।
চুক্তির শর্তানুসারে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে। এছাড়া, এই চুক্তির আওতায় দেশগুলো একে অপরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একে অপরকে সহায়তা করবে।

