৮ জুলাই তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এয়ার ফোর্স ওয়ানে আরোহন করেন, তখন ক্যামেরা ও উপস্থিত সবার চোখ ছিল তার ওপর। কিন্তু বিমানটি আঙ্কারা থেকে উড়াল দেওয়ার আগেই প্রেসিডেন্টকে গোপনে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি সামরিক বিমানে (সি-৩২এ) সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই বিশেষ বিমানটি তাকে যুক্তরাজ্যের আরএএফ মিলডেনহলে পৌঁছে দেয়। বিমানে থাকা বাকি যাত্রীরা জানতেনই না যে প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে নেই; তারা কেবল ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলেন।
সিক্রেট সার্ভিসের এই ধরনের কৌশল নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা বিষয়ক লেখক রোনাল্ড কেসলার জানান, প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় এমন বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রাক্তন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট রবার্ট ম্যাকডোনাল্ড জানান, মোটরকেড বা গাড়িবহরের ক্ষেত্রেও এই 'শেল গেম' বা ছদ্মবেশের খেলা নিয়মিত চলে। প্রায়ই দুটি 'বিস্ট' বা প্রেসিডেন্ট বহনকারী লিমুজিন একসঙ্গে থাকে এবং পথিমধ্যে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে, যাতে হামলাকারীরা বিভ্রান্ত হয়। একইভাবে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারও তিনটি করে গ্রুপে উড়ে, যাতে কোনটি প্রেসিডেন্ট বহন করছে তা বোঝা কঠিন হয়।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে এই ধরনের কৌশল আরও জটিল হয়। প্রাক্তন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট পল একলফ জানান, এটি সবসময় ঘটে না, তবে এটি একটি বিকল্প যা নির্বাহী সুরক্ষায় নিয়োজিতরা সবসময় হাতে রাখেন। ২০০০ সালের মার্চে বিল ক্লিনটন ভারত থেকে পাকিস্তান সফরের সময় একটি ছদ্মবেশী জেটের সাহায্য নিয়েছিলেন। আবার ২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ বাগদাদে যাওয়ার সময় এ ধরনের গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে জো বাইডেনের ইউক্রেন সফরের সময়ও একই ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রকাশ করেননি।
ম্যাকডোনাল্ডের মতে, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে যে ধরনের অসাধারণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা থেকে বোঝা যায় তুরস্কের সেই সময়ে হুমকি ছিল অত্যন্ত গুরুতর। সিআইএ-র ২৬ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা মার্ক পলিমারোপোলোসও একই মত পোষণ করেন। তার মতে, হুমকি কতটা ভয়াবহ ছিল যে সিক্রেট সার্ভিসকে এমন জটিল পরিকল্পনা করতে হয়েছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো বিমান ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তবে তা নিয়ে সতর্ক করার দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর থাকে, যদিও তারা সবসময় তা করতে পারে না।
বিমানে থাকা সাংবাদিকদের বারবার জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হতো। ম্যাকডোনাল্ডের ভাষ্যমতে, এটি সাধারণ নিয়ম এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই করা হয়। তিনি আরও বলেন, সিক্রেট সার্ভিসের মূল কাজ প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করা, জনসংযোগ নয়। তাদের নামেই যেমন গোপনীয়তা রয়েছে, তেমনি তারা সব তথ্য সবাইকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রাখে না। হোয়াইট হাউস বা সিক্রেট সার্ভিস এই নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য তারা প্রতিটি সম্ভাব্য কৌশল ব্যবহার করে থাকে।

