জ্যাকঅ্যাস ফ্র্যাঞ্চাইজির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে 'জ্যাকঅ্যাস: বেস্ট অ্যান্ড লাস্ট' সিনেমার মাধ্যমে। এই সিনেমার শেষে ৫৫ বছর বয়সী জনি নক্সভিলকে আবেগী হয়ে কাঁদতে দেখা গেলেও, পর্দার আড়ালে তার কান্নার আসল কারণ ছিল তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা। সিনেমার একটি ডিলিট করা দৃশ্যে হেভিওয়েট বক্সার ক্রিস 'দ্য নাইটমেয়ার' আরিওলার একটি শক্তিশালী ঘুষিতে নক্সভিল মারাত্মক ব্যথা অনুভব করেন।
সিনেমার 'ট্রুথ অর ডেয়ার' প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এই দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল। ঘুষিটি এতই শক্তিশালী ছিল যে নক্সভিল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং দৃশ্যত বেশ আঘাতপ্রাপ্ত হন। সিনেমার মূল থিয়েট্রিক্যাল সংস্করণে এই অংশটি রাখা না হলেও, ১১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া সিনেমার ডিজিটাল ভার্সনে এটি একটি বিশেষ সংযোজন হিসেবে থাকছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নক্সভিল ইউএসএ টুডেকে ইমেইলে জানান, লিভারে ঘুষি খাওয়ার যন্ত্রণা যে কতটা ভয়াবহ, তা তিনি সেদিন উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, লিভারে আঘাত পাওয়ার পর পুরো শরীর যেন অবশ হয়ে যায়, কারণ শরীর তখন বুঝতে পারে না কী করা উচিত। আরিওলাও স্বীকার করেছেন যে, তিনি বেশ জোর দিয়েই ঘুষিটি মেরেছিলেন। তিনি জানান, একজন পেশাদার হেভিওয়েট বক্সারকে এমন পরিষ্কারভাবে আঘাত করলে সেও মাটিতে পড়ে যেতে পারে, আর নক্সভিল সেটিকে খুব সাহসের সাথে গ্রহণ করেছিলেন।
নিজের ক্যারিয়ারে এর আগেও নক্সভিল অনেক আঘাত পেয়েছেন, যার মধ্যে ষাঁড়ের লড়াইয়ের সময় পাওয়া মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ অন্যতম। তবে লিভারে খাওয়া এই ঘুষিকে তিনি অন্যতম যন্ত্রণাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন।
সিনেমার একই প্রতিযোগিতায় নক্সভিলের করা একটি মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটিই হতে যাচ্ছে জ্যাকঅ্যাস ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ সিনেমা। নক্সভিল নিজেই ইউএসএ টুডেকে নিশ্চিত করেছেন যে, জ্যাকঅ্যাস সিরিজের আর কোনো সিক্যুয়েল আসার সম্ভাবনা শূন্য শতাংশ। তিনি বলেন, আমরা শেষ করেছি, পিরিয়ড।
তবে এই ঘোষণা তার 'ব্যাড গ্র্যান্ডপা' সিনেমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। 'বেস্ট অ্যান্ড লাস্ট' সিনেমায় থাকা সেই বৃদ্ধ চরিত্রের নতুন একটি দৃশ্য দর্শকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, যে চরিত্রে নক্সভিল আগামীতেও অভিনয় চালিয়ে যেতে পারবেন।

