কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ দাবানলের কারণে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজ থামিয়ে বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে উদ্ধারকাজে মনোযোগ দিতে হয়েছে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওকানাগান অঞ্চলের সামারল্যান্ড নামক এলাকায় গত শুক্রবার 'বাল্ড রেঞ্জ' দাবানলটি শুরু হয়। প্রায় ১২ হাজার মানুষের এই জনপদটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার নাগাদ এটি প্রায় ১৮৪ বর্গকিলোমিটার (৭১ বর্গমাইল) এলাকা গ্রাস করে ফেলেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ৮০ বছর বয়সী এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রাদেশিক প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি পেন্টিটনের একটি ইভাকুয়েশন রিসেপশন সেন্টারে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সাথে দেখা করেন। তিনি এই মৃত্যুকে একটি 'মর্মান্তিক ক্ষতি' হিসেবে উল্লেখ করেন। ইবি বলেন, দাবানলটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, তা সরকারি অগ্নিনির্বাপণ মডেলের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনা হয়তো আমাদের জন্য এক 'নতুন স্বাভাবিক' পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এলাকাটি এখনো নিরাপদ না হওয়ায় বাসিন্দাদের ফিরে যাওয়ার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ৯৭ নম্বর হাইওয়েসহ প্রধান সড়কগুলো এখনো বন্ধ রয়েছে। জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কেলি গ্রিন জানিয়েছেন, বাসিন্দাদের সরাসরি তথ্য না দেওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না, যাতে তারা সোশ্যাল মিডিয়া বা টেলিভিশনের মাধ্যমে তাদের ঘরবাড়ি হারানোর খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন।
সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস সতর্ক করেছেন যে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথটি দীর্ঘ এবং কঠিন হবে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কর্মীরা গাছপালা পরিষ্কার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বজ্রপাতের সম্ভাবনা এবং অনিয়মিত বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার ইবি জানিয়েছেন, দাবানল মোকাবিলায় প্রাদেশিক পরিকল্পনা, ভবন নির্মাণের মানদণ্ড এবং বনভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।
সামারল্যান্ডের ফার্মাসিস্ট জোনাথন কিসম্যান জানান, তিনি বাস্তুচ্যুত রোগীদের ওষুধ পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং আগুনের লেলিহান শিখা সম্প্রদায়ের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডা বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাবানল মৌসুম পার করেছে। ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিমাণ ১৪.৬ মিলিয়ন হেক্টর (৩৬ মিলিয়ন একর) বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, যা আয়তনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সমান। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কানাডার তাপমাত্রা বিশ্ব গড়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে, যা দাবানলের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির দুর্গম বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

