ইংল্যান্ড সফরের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে পেশাদার কাউন্টি ক্লাব (পিসিসি) সিলেক্ট একাদশের বিপক্ষে দারুণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছে পাকিস্তান। বেকেনহামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথম দিন শেষে পিসিসি সিলেক্ট একাদশকে ৩০৫ রানে অলআউট করার পর পাকিস্তান কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছে।
ম্যাচটিতে পিসিসি সিলেক্ট একাদশের চারজন ব্যাটার অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। সাইফ জাইব ৬৫, ম্যাট ফিশার অপরাজিত ৬২, ক্যালেব ফ্যালকনর ৫৯ এবং টম হেইনস ৫১ রান করেন। তবে ইংল্যান্ডের ওপেনার এমিলিও গে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস দুজনেই তিনটি করে উইকেট শিকার করেন; আলী ২৩ রানে ৩টি এবং আব্বাস ৩৭ রানে ৩টি উইকেট নেন।
দিনের শুরুতে প্রথম বলেই পাকিস্তানের ফিল্ডাররা গে-এর বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় ওভারে আব্বাসের বলে সালমান আলী আগার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন গে। আব্বাস এরপর জেমস রু-কে ৪ রানে ফেরান। অন্যদিকে, হেইনস ৩০ বলে দ্রুত ৫০ রান করলেও শেষ পর্যন্ত আলীর বলে এলবিডব্লিউ হন। ফ্যালকনর ও জাইব ১১০ রানের একটি জুটি গড়েন, তবে দুজনেই ইনিংসের মাঝে জীবন পান। ফ্যালকনর ২৯ রানে ও জাইব ১৮ রানে থাকার সময় ক্যাচ বা স্টাম্পিংয়ের সুযোগ মিস করে পাকিস্তান।
জাইব সালমানকে সিঙ্গেল নিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করার পরের বলেই ফ্যালকনর তার ফিফটি স্পর্শ করেন। তবে জাইব এরপর খুররম শাহজাদের বলে বাউন্ডারি লাইনে আওয়াজ জাফরের হাতে ধরা পড়েন। ফ্যালকনরকে ৫৯ রানে আব্বাস শিকার করেন। এরপর মোহাম্মদ আলী লুস বেনকেনস্টাইন ও নোয়া থেইনকে আউট করে দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।
চা বিরতির আগে পিসিসি সিলেক্ট একাদশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৭ রানে ৭ উইকেট। আমির জামাল চার্লি টিয়ারকে ৭ রানে সাজঘরে ফেরান। ফিশার ও সেলস ৫৫ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও আলী উসমানের বলে সেলস আউট হন। ফিশার একটি ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং শেষ ব্যাটার শোয়েব বশির শাহজাদের বলে আউট হলে পিসিসি ৩০৫ রানে থামে।
দিনের শেষভাগে পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ইমাম ১৪ রানে থাকার সময় নাথান গিলক্রিস্টের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ তুলে দিলেও বেঁচে যান। দিনশেষে ইমাম ২৬ ও আজান ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৯ আগস্ট হেডিংলিতে প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগে এটিই পাকিস্তানের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা বিবেচনায় চার দিনের ম্যাচটি তিন দিনে কমিয়ে আনা হয়েছে এবং সব ১৪ জন স্কোয়াড সদস্যকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

