ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা এলাকায় রাশিয়ার এক বিমান হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, বেরিজিভকা জেলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর ট্রেনটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়, যা পরবর্তীতে নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার সময় ট্রেনটিতে ৩৪০ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেসামরিক পরিবহনে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ইউরোপে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে বিশ্বকে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং ইউক্রেনের জন্য আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ওডেসা অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ হামলায় বন্দর অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইজমাইল শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, গত রাতে রাশিয়া মোট ১৩৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল, যার মধ্যে ১১১টি তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা ইজমাইলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি অস্থায়ী স্থাপনা এবং সামরিক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তারা রেনি বন্দরে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একটি কমান্ড পোস্ট ধ্বংস করারও দাবি করেছে। তবে এসব দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একই সময়ে রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কৃষ্ণ সাগর, আজভ সাগর, ক্রিমিয়া এবং রাশিয়ার ১৭টি অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৩৬২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। বাশকোর্তোস্তানের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সালাভাত শহরের একটি শিল্পাঞ্চলে ড্রোন হামলার ফলে আগুন লেগেছে এবং সেখানে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া পাশের একটি ওয়াইল্ডবেরিস স্থাপনা থেকে সতর্কতামূলকভাবে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ পরে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের বাহিনী রাশিয়ার সালাভাত এলাকার গ্যাজপ্রম নেফতেখিম তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে, মস্কোও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই ব্যাপকহারে ড্রোন অভিযানের ওপর নির্ভর করছে, যার ফলে বেসামরিক এলাকা ও জরুরি অবকাঠামো বারবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

