অধিকৃত পশ্চিম তীরে থাকা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আইন প্রয়োগের দায়িত্ব ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সামরিক বাহিনীকে এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের আওতায় একটি বিশেষ পুলিশ বাহিনী গঠন করা হবে, যাদের প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব ও তহবিল দেওয়া হবে। এই বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার ইতামার বেন-গভিরের অধীনে কাজ করবে।
ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের (অ্যানেক্সেশন) প্রক্রিয়াকে আরও পাকাপোক্ত করার একটি নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল-শেখের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব এবং দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এবং ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার সময় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে। হামাসও এই পরিকল্পনার কঠোর বিরোধিতা করে একে 'ডি ফ্যাক্টো' বা কার্যত দখলের দিকে একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, বেন-গভিরের অধীনে থাকা পুলিশের কাছে কর্তৃত্ব হস্তান্তর করলে তা অবৈধ বসতি স্থাপনের নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরের প্রায় ২৬০টি ফিলিস্তিনি কমিউনিটিতে ১,৪৩০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নজিরবিহীন। এসব হামলা, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং উচ্ছেদের ফলে প্রায় ৩,৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার অর্ধেকই শিশু। আল-শেখ আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ওই অঞ্চলের কোনো অংশে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

