লিভারপুলের ১৭ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রিও এনগুমোহার ক্যারিয়ারকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে হলে তাকে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন ক্লাবটির কিংবদন্তি জন বার্নস। তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ না চাপিয়ে তাকে ধীরে ধীরে দলে জায়গা পাকা করার সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জন বার্নস মনে করেন, অনেক সময়ই তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর দ্রুত জাতীয় দলে খেলা বা বিশ্বের সেরা হওয়ার মতো বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়। তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে তাকে ধীরে ধীরে দলে জায়গা করে নিতে দিতে হবে, তার পরেই তাকে লিভারপুল বা ইংল্যান্ডের মূল খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। এখন সে এমনকি দলেও নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছে না। তাই তাকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠার সময় দিতে হবে।
মাঠে এনগুমোহার খেলার ধরন নিয়েও কথা বলেছেন বার্নস। তিনি উল্লেখ করেন, কেবল চার-পাঁচজন খেলোয়াড়কে ড্রিবলিং করে কাটিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়, যদি না তার শেষটা ফলপ্রসূ হয়। বার্নসের ভাষায়, আপনি খেলোয়াড়দের কাটিয়ে যাচ্ছেন ঠিক আছে, কিন্তু তার পর আপনি কয়টি গোল করছেন বা করাচ্ছেন? শেষ পর্যন্ত এই পারফরম্যান্স দিয়েই আপনার বিচার হবে, কেবল কত সুন্দর খেলছেন তা দিয়ে নয়।
গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আলোচনায় আসেন এনগুমোহা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯ ম্যাচে ২ গোল করেছিলেন তিনি। গত বছরের আগস্টে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে জয়সূচক গোল করে লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। এছাড়া গত জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক ঘটে। ২০২৬ সালের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি পর্বেও রেক্সহ্যামের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছেন এই তরুণ।
সেন্ট জেমস পার্কে নিউক্যাসলের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ৩-২ গোলের জয়ের স্মৃতিচারণ করে এনগুমোহা বলেছিলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে জয়সূচক গোল করতে পেরে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে। এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত ছিল। সেই ম্যাচে কোডি গ্যাকপোর পরিবর্তে অতিরিক্ত সময়ে মাঠে নেমেছিলেন তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
আগামী ২৩ আগস্ট নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই লিভারপুল তাদের নতুন প্রিমিয়ার লিগ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। নতুন কোচ আর্নে স্লটের অধীনে এই ম্যাচে এনগুমোহা আরও বেশি খেলার সুযোগ পান কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

