জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট গণনা কার্যক্রম স্থগিত করেছে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং কিছু ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সহিংসতার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। তবে ব্যালট চুরির পেছনে কাদের হাত রয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।
এদিকে, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ব্রায়ান মুন্দুবিল এই বিলম্বের সমালোচনা করে নিজের জয় দাবি করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই বিলম্বের সুযোগ নিয়ে নির্বাচনী ফলাফলে হস্তক্ষেপ বা কারচুপি করা হতে পারে। মুন্দুবিল দাবি করেন, অন্তত একটি শহরে সামরিক সদস্যরা ভোট গণনা কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং অন্য জায়গাগুলোতেও ব্যালট বাক্স সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তিনি। তবে এই দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
রাজধানী লুসাকায় এখন পর্যন্ত কোনো অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যায়নি। জাম্বিয়া ১৯৯১ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর থেকে সাধারণত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করার অভিযোগ উঠেছিল।
নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিরোধী দলীয় জোটের অফিসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের পেছনে সরকারের হাত ছিল বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন মুন্দুবিল। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ মূলত তাদের নির্বাচনী প্রচারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নেওয়া হয়েছিল।
তাম্রসমৃদ্ধ এই আফ্রিকান দেশটিতে প্রেসিডেন্ট হিচিলেমা তার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ব্রায়ান মুন্দুবিলসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী। প্রায় ২২ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে প্রায় ৮ মিলিয়ন ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন এবং ১৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি কেন্দ্রে তারা ভোট দিয়েছেন। এই নির্বাচনটি হিচিলেমার অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালের ঋণ সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করলেও, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তার সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে।

