নেত্রকোনার মদন উপজেলায় গরু চুরির একটি মামলায় পুলিশ প্রতিবেদনে ‘মোটরসাইকেল চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী নূর নাহারের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি ও আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশের কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে আসামিরা জামিন পেয়েছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের বাসিন্দা নূর নাহারের সঙ্গে প্রতিবেশী বাক্কাস উদ্দিন ওরফে বাহাজ উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল বাক্কাস উদ্দিন লোকজন নিয়ে নূর নাহারের চারটি গরু নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিলে নূর নাহার ও তার মেয়ে ইভা আক্তারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় মাতব্বর ও থানায় বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে নূর নাহার নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশে গত ২ আগস্ট মদন থানায় নিয়মিত মামলাটি দায়ের করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট পুলিশ বাক্কাস উদ্দিন (৫০) ও লেজ উদ্দিন ওরফে রিয়াজ উদ্দিনকে (৬০) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তবে বাদীর অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে গরু চুরির বিষয়টি এড়িয়ে ‘মোটরসাইকেল চুরি’ উল্লেখ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শফিউল হক তালুকদার কিরণ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটিকে গুরুত্ব দেননি, ঘটনার শুরুতে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে গরুগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উত্তম কুমার অবশ্য এটিকে ‘টাইপিং মিসটেক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ফরোয়ার্ডিংয়ে লিখতে গিয়ে ভুল হয়েছে এবং আদালতকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। চার্জশিটে সংশোধন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও জানান, গরুগুলো বিক্রি করে ফেলায় সেগুলো আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মদন থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন করিমও এটিকে টাইপিং ভুল হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ফরোয়ার্ডিংয়ের পুরোটাতেই গরুর বিষয়টি উল্লেখ আছে, শুধুমাত্র শেষের লাইনে টাইপিং মিসটেকে গরুর জায়গায় মোটরসাইকেল হয়ে গেছে। মানুষ মাত্রই ভুল হওয়া স্বাভাবিক।

