ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী মোখা বন্দরে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় বন্দরটির বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দরের পরিচালক আব্দুলমালিক আল-শারাবি জানান, এই হামলায় আনুমানিক ১৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আল-শারাবি আরও জানান, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা কর্মী এবং তিনজন বন্দর কর্মচারী রয়েছেন। তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট থেকে এই বন্দরটিতে ২৫টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইয়েমেন সরকার এবং হুথিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর মোখা বন্দরে এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলার ঘটনা।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, হামলার ফলে ছয়টি কাঠের জাহাজ এবং বন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বন্দর কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার কারণে প্রায় ১,৩০০ শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আল-শারাবি উল্লেখ করেন, এই হামলার সময় বন্দরটিতে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প চলছিল।
সরকার সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস শুক্রবার দাবি করেছে যে, হুথিরা গত কয়েক দিনে মোখা বন্দর এবং বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৪৬টি ড্রোন ও বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে হুথিদের দাবি, তারা মোখা এলাকায় সামরিক জমায়েত, অস্ত্রের গুদাম এবং সামরিক নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমির মতে, এই হামলা শিপিং ট্রাফিক এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে চলা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে মোটামুটি যুদ্ধবিরতি বজায় ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মারিব, আল-জওফ, আল-ধালি এবং তাইজসহ বিভিন্ন প্রদেশে লড়াই বেড়েছে। সৌদি আরব ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনরুদ্ধারে গঠিত জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান হুথিদের সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও তেহরান তা অস্বীকার করে আসছে। হুথিরা জুলাই মাসে সৌদি আরবের ওপর একটি সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।

