ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সামারা অঞ্চলের একটি প্রধান শিল্প অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। শনিবারের এই হামলায় কিয়েভ তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
সামারার আঞ্চলিক রাজধানী শহরের প্রধান ইভান নোসকভ জানিয়েছেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। তবে শহরের শিল্প এলাকায় কিছু আংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বাহিনী সামারার 'প্রোগ্রেস সেন্টার'-এ আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'রসকসমস'-এর অধীনে পরিচালিত এই কেন্দ্রটিতে রকেট প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তৈরি করা হয়।
ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) দূরে অবস্থিত এই শিল্পকেন্দ্রে হামলায় ইউক্রেনে উৎপাদিত 'ফ্লেমিঙ্গো' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জেলেনস্কি জানান। এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (৪৩০ মাইল) দূরে অবস্থিত রাশিয়ার সাভাসলেইকা বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন এবং সুনির্দিষ্ট স্থাপনায় বাস্তব ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে এটি রাশিয়ার অনুধাবন করা উচিত।
চলমান যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও জ্বালানি খাতের ওপর দূরপাল্লার বিমান হামলা জোরদার করেছে। লক্ষ্য হলো মস্কোর যুদ্ধের তহবিল সংকুচিত করা এবং রুশ জনগণকে আগ্রাসনের পরিণতি টের পাইয়ে দেওয়া। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন সংস্থা 'অ্যাকলেড' (ACLED)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের বেশিরভাগ হামলার পরিধি ২০০ কিলোমিটারের কম হলেও এ বছর তাদের দূরপাল্লার হামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। গত জানুয়ারির তুলনায় জুলাই মাসে এই ধরনের হামলা তিন গুণ বেশি হয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে ক্রমাগত এই হামলার কারণে রুশ বাহিনীকে বিশাল এলাকা জুড়ে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার তারা ১৯টি রুশ অঞ্চল, কৃষ্ণসাগর, আজভ সাগর এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের ওপর দিয়ে উড়ে আসা ৫৯৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভরোবিওভ জানান, শাতুরা শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৯ বছরের এক শিশুসহ দুই জন আহত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় একটি তিন মাস বয়সী শিশু নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকসান্দর হানঝা জানান, মারহানেটস শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ওডেসা, ইজমাইল এবং ইউঝনি বন্দরের গুদাম ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার রাশিয়া তাদের ভূখণ্ডে ১৫২টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে ১২৪টি ধ্বংস করা হয়েছে।

