প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৫৩। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নির্মাণাধীন ১০ তলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান। এর মধ্যে দেশ উন্নয়ন করপোরেশনের সঙ্গে ৫৩ কোটি টাকার চুক্তিতে ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠান ৮৭ কোটি টাকার চুক্তিতে আরেকটি ১০ তলা আবাসিক হলও নির্মাণ করছে। তবে নির্মাণস্থলে মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ও মানহীন রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণসামগ্রীর স্তূপে এমন অনেক সিমেন্টের বস্তা রয়েছে যেগুলোর মেয়াদ গত বছরের এপ্রিল, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া ভবনটিতে এসএএস (শফিউল আলম স্টিল) কোম্পানির রড ব্যবহার করা হচ্ছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪০টি রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ১০টির মধ্যে এসএএসের নাম নেই। শাবিপ্রবির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞদের দাবি, বুয়েট বা শাবিপ্রবিসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সাধারণত এ রড ব্যবহারের পরামর্শ দেন না।
রডের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরীক্ষায় যদি পিডব্লিউডির নির্ধারিত ৬০ কেএসআই (কিলোপাউন্ড পার স্কয়ার ইঞ্চি) মান নিশ্চিত হয়, তাহলে ব্যবহারে আপত্তির যৌক্তিক কারণ নেই। পাথর ব্যবহারের বিষয়ে তারা জানান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাথরের গ্রেডেশন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৯ মিলিমিটার এবং সর্বনিম্ন ১০ মিলিমিটার আকারের পাথর থাকা প্রয়োজন। এছাড়া ঢালাইয়ের পর ছাদে রড উন্মুক্ত থাকার বিষয়ে তারা বলেন, ছাদের ঢালাইয়ে রডের ওপর অন্তত ০.৬ থেকে ০.৮ ইঞ্চি কংক্রিট কভার থাকা উচিত। রড বের হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা মরিচা ধরা ও ফাটল সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আহমেদ চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যদিও ইউজিসির সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেশ উন্নয়ন করপোরেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা নিয়মিত সিমেন্ট ব্যবহার করছেন এবং পিডব্লিউডির তালিকাভুক্ত রডই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নির্মাণশ্রমিকদের ভাষ্যমতে, মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্টই কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

