মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সোমবার আইওয়া সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন, প্রবীণ সেনাদের (ভেটেরান্স) উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আসন ধরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তার এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
একজন বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিবের এভাবে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়া অত্যন্ত নজিরবিহীন। অতীতে প্রতিরক্ষা সচিবদের সাধারণত কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের আইওয়া সফরের ঢল নেমেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, স্মল বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক কেলি লোফলার, ভিএ সেক্রেটারি ডগ কলিন্স এবং ন্যাটোর ম্যাট হুইটেকার। পেন্টাগনের মুখপাত্রদের কাছে হেগসেথের এই সফরের বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আইওয়া রাজ্যটি বেশ কয়েকটি নির্বাচন ধরে রিপাবলিকানদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও এবার ডেমোক্র্যাটরা সেখানে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের দুটি আসন, যা বর্তমানে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জ্যাক নান এবং ম্যারিয়ানেট মিলার-মিক্সের দখলে রয়েছে, সেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ইউএস সিনেট এবং গভর্নরের আসনের জন্যও উন্মুক্ত লড়াই চলছে।
হেগসেথ মূলত জ্যাক নানের একটি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। নান বর্তমানে মার্কিন বিমান বাহিনী রিজার্ভের একজন কর্নেল হিসেবে কর্মরত আছেন এবং প্রায় দুই দশক ধরে বিমান বাহিনীতে সেবা দেওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নান মাত্র চার শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের রেটিং অনুযায়ী, এই আসনটিতে রিপাবলিকানরা সামান্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের মতে, মিলার-মিক্সের নির্বাচনী লড়াইয়ের ফলাফল যেকোনো দিকে যেতে পারে এবং তিনি ২০২১ সাল থেকে আইওয়ার ১ম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি ২০২২ এবং ২০২৪ সালে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস্টিন বোহাননের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বোহাননকে মাত্র ৭৯৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নিজের আসন রক্ষা করেছিলেন মিলার-মিক্স। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মাইকেল ব্রিজগফোর্ড, যিনি নিজেকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
এর আগে গত সপ্তাহে হেগসেথ সাউথ ক্যারোলিনায় একটি সরকারি সফরে যান, যেখানে জয়েন্ট বেস চার্লসটন নাম পরিবর্তন করে জয়েন্ট বেস লিন্ডসে গ্রাহাম করার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে সিনেটর ডার্লিন গ্রাহাম উপস্থিত ছিলেন, যিনি তার প্রয়াত ভাইয়ের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রাইমারির রান-অফে লড়ছেন। ওই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় ডার্লিন গ্রাহাম এবং প্রতিনিধি রালফ নরম্যান চলতি মাসের শেষের দিকে একটি রান-অফ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এছাড়া চলতি বছরের শুরুর দিকে হেগসেথ উত্তর কেনটাকিতে রিপাবলিকান এড গ্যালরিনের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন, যিনি ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের বিরোধী কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসিকে প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পর যে কয়েকজন বর্তমান রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রাইমারি নির্বাচনে হেরেছেন, ম্যাসি তাদের অন্যতম।

