মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, সমাজ ও রাষ্ট্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের শিক্ষা আমাদের দেখায় যে কেবল সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই একটি সমাজ দীর্ঘমেয়াদে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জার্মান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা (জিআইজেড) এবং নরওয়ে সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী। সংলাপে ইউএনডিপির প্রতিনিধি, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের পরিবর্তিত গণমাধ্যম ও তথ্য জগতের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে তথ্যপ্রবাহের সুযোগ যেমন বহুগুণ বেড়েছে, তেমনি এর সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন জটিলতা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি রাষ্ট্র, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সময়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি এর নির্ভরযোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশকে দ্বিমুখী তলোয়ার হিসেবে বর্ণনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এর ফলে তথ্যের পরিধি যেমন বিস্তৃত হচ্ছে, তেমনি ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করে দেন যে, প্রযুক্তি যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে ভবিষ্যতে এমন এক দানবীয় পরিবেশ তৈরি হতে পারে যা আমাদেরই ধ্বংসের কারণ হবে। এই সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব বাস্তবতার নিরিখে সক্ষমতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মেলবন্ধন প্রয়োজন। তিনি নতুন প্রজন্মকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ডেটা-নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান। একই সাথে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা ও জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউএনডিপির এই সংলাপ দেশের গণমাধ্যম খাতের জন্য সঠিক নীতি নির্ধারণ ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

