আগামী মাসে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যবহার করা হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মীদল। এই সিরিজের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান আইটিডব্লিউ ইউনিভার্স (ITW Universe) জানিয়েছে, সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপের সমমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সিরিজের সম্প্রচারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। দ্বিপাক্ষিক কোনো ক্রিকেট সিরিজে এই প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের হোস্ট-ব্রডকাস্ট মানদণ্ড পুরোপুরি বজায় রেখে খেলা সম্প্রচার করা হবে।
আগামী ১৩, ১৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই তিন ম্যাচের সিরিজটি সোনি স্পোর্টসে (Sony Sports) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং ফ্যানকোড (FanCode) অ্যাপে লাইভ স্ট্রিম করা হবে। আইটিডব্লিউ ইউনিভার্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং একাধিক উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পরিচালনা করা অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই এই সিরিজের সম্প্রচার গ্যালারি নিয়ন্ত্রণ করবেন।
এই সিরিজের সম্প্রচার পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন জেমি ওকফোর্ড, যিনি ২০০২ সাল থেকে প্রতিটি ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে ২০১৪ সালের ফাইনাল ম্যাচটিও রয়েছে। আইটিডব্লিউ ইউনিভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ভৈরব শান্ত জেমি ওকফোর্ডের প্রশংসা করে বলেন, "আমরা তাঁর দর্শনে বিশ্বাস করি, যা দর্শকদের মাঠের সেরা আসনে বসে খেলা দেখার অনুভূতি দেয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা ক্রিকেটে গত ১০-১২ বছর ধরে ব্যবহৃত একই পুরোনো উৎপাদন প্রযুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এই সিরিজটি দর্শক এবং ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।"
এই সিরিজের সম্প্রচারে বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই-স্ট্যাবিলাইজড পিওভি ক্যামেরা, ভলিউমেট্রিক ফ্রি-ভিউ পয়েন্ট প্রযুক্তি, উন্নত স্পাইডারক্যাম, আল্ট্রা-মোশন এবং সিনেমাটিক স্টাইলের স্টোরিটেলিং। এছাড়া সিরিজে ব্যবহৃত হবে কুইডিচ ইনোভেশন ল্যাবসের 'স্প্যাটিও' (Spatio) সিস্টেম। এই সিস্টেমটি ড্রোন ফিডের ওপর অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং রিয়েল-টাইম অপটিক্যাল প্লেয়ার ট্র্যাকিংয়ের সমন্বয়ে কাজ করে। এর মাধ্যমে মাঠের ফিল্ডিং পজিশন গ্রাফিক্স, কৌশলগত বিশ্লেষণ এবং অনন্য স্টোরিটেলিং অ্যাঙ্গেল ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে, যা ভারতীয় ক্রিকেট সম্প্রচারের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সংযোজন।
আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো আল্ট্রা-লো-মোশন ক্যামেরা সিস্টেম (এম্পেরর-স্টাইল বা ফ্যান্টম ক্লাস), যা প্রতি সেকেন্ডে ৬০০ বা তার বেশি ফ্রেম ধারণ করতে পারে। এর ফলে বলের গতিপথ, ব্যাটের স্পর্শ, এজ, স্টাম্পিং এবং ফিল্ডিংয়ের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নাটকীয় রিপ্লে দেখানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে, ভলিউমেট্রিক ফ্রি-ভিউ পয়েন্ট প্রযুক্তির আওতায় মাঠজুড়ে থাকা ক্যামেরার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পুরো পিচ এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের একটি রিয়েল-টাইম ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করা হবে। এর ফলে সম্প্রচারকারীরা যেকোনো স্থানে—এমনকি খেলার অ্যাকশনের ভেতরেও—ভার্চুয়াল ক্যামেরা স্থাপন করে ফ্রি-ভিউ পয়েন্ট রিপ্লে তৈরি করতে পারবেন।

