ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে হিজাব ও নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রীকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ এবং ‘জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার দোহাই দিয়ে হিজাব ও নিকাববিদ্বেষের কোনো সুযোগ নেই। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং তার ‘হিজাবোফোবিয়া’ বা ধর্মীয় পোশাকের প্রতি বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির মূলোৎপাটন করা। এত আত্মত্যাগের পরও দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ধারকদের এমন অবাধ বিচরণ দুঃখজনক। একই সঙ্গে, সহপাঠীর ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান নিয়েছে এবং ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ধর্মীয় পোশাক পরিধানের কারণে কাউকে বৈষম্য বা হয়রানি করা হলে তা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত নীতিমালায় ‘শাস্তিযোগ্য অসদাচরণ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্ধারিত শাস্তির মাত্রা ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা।

