ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ দলকে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে না ভোগার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হতে যাওয়া সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকরা আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। প্রথম টেস্টে চার দিনের মধ্যে ৯ উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেওয়া বাংলাদেশ দল এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিমন্স বলেন, "আমি তাদের একটি কথাই বলেছি এবং এটি সবখানেই বলব—অস্ট্রেলিয়া আরও শক্তভাবে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় এই পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রাখতে হবে, না হয় আরও কিছুটা উন্নতি করতে হবে।" তিনি মনে করেন, কিছু জায়গায় অন্তত ১ শতাংশ উন্নতি হলেও তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সিমন্সের মতে, পাঁচ দিনের টেস্টে যদি দল ১১ ঘণ্টা ব্যাটিং করতে পারে, তবে প্রতিপক্ষ এমনিতেই চাপে পড়ে যাবে। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে খাটাতে চান তিনি।
ডারউইনের জয়টিকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সিমন্স। অথচ এই টেস্টের আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সিমন্স জানান, সেই ব্যর্থতার পরও খেলোয়াড়দের অনুশীলনের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "সেদিন ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও আমাদের কাজের ধারা বা পরিশ্রমের হার কমেনি। এটিই আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল যে ছেলেরা ভালো করতে চায়।" পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর থেকে বিদেশে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি সম্মান বাড়ছে বলেও মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের প্রশংসা করেন সিমন্স। ১০০-র বেশি টেস্ট খেলা মুশফিকুর সম্পর্কে তিনি বলেন, "সে খেলাটি দারুণ উপভোগ করছে। মুশফিকের নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই, সে এখন কেবল নিজের টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ করছে, যা দেখে আমি খুবই আনন্দিত।"
দেশের সমর্থকদের প্রত্যাশা ও আবেগ নিয়ে সিমন্স বলেন, "বাংলাদেশে সবসময়ই প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে, বিশেষ করে আমরা যখন জয়ী হই। আমরা শেষ কয়েকটি টেস্ট জিতলেও জিম্বাবুয়েতে হেরেছিলাম। তবে বাংলাদেশিদের প্রত্যাশায় কোনো বদল আসে না।" তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশিরা আবেগপ্রবণ হলেও তিনি নিজে তেমন নন, তাই তার পক্ষে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। তিন দিনের বিরতিতে খেলোয়াড়রা এখন অনেকটাই শান্ত হয়েছেন এবং শনিবার সকালে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

