ভারতীয় ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দৌড়ে প্রসিধ কৃষ্ণা নিজের দাবি জোরালো করছেন। সম্প্রতি গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং অধিনায়ক শুভমান গিলের ভূয়সী প্রশংসা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের পর ভারতের পেস আক্রমণের পরবর্তী বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার দারুণ সুযোগ এখন এই কর্নাটকী পেসারের সামনে।
গলে টেস্ট শুরুর কয়েক দিন আগে শুভমান গিল কর্নাটকের এই পেসারকে নিয়ে দারুণ এক মূল্যায়ন করেছিলেন। পাঞ্জাবের দীর্ঘদেহী বোলার গুরনুর ব্রারের চেয়ে প্রসিধকে দলে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে গিল বলেছিলেন, "আমি ইদানীং প্রসিধকে যেভাবে বল করতে দেখছি, তা আমার দেখা তার সেরা বোলিং।" ভারত ও গুজরাট টাইটান্সের এই অধিনায়কের মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি নেটে প্রসিধকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তবে আকাশ দীপের মতো প্রতিভাবান বোলারদের চোটের সমস্যা এবং গুরনুর ব্রারের মতো নতুন প্রতিভাদের উত্থানের কারণে প্রসিধকে নিজের জায়গা ধরে রাখতে হলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রসিধের পারফরম্যান্স বেশ খরুচে ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে নিয়ন্ত্রণ ও ইকোনমি রেট নিয়ে তাকে বেশ ভুগতে হয়েছে। এমনকি ম্যানচেস্টারে তার জায়গায় অনভিষিক্ত আনশুল কম্বোজকে খেলানো হয়েছিল। তবে গলে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে প্রসিধের ৫ ওভারের স্পেলটি ছিল অসাধারণ। বাঁহাতি ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিসের বিপক্ষে রাউন্ড দ্য উইকেট বল করে কোণাকুণি লেংথ ডেলিভারিতে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। গিলের সাথে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর চতুর্থ বলটি অফ-স্টাম্পের বাইরে কিছুটা শর্ট লেংথে করেন প্রসিধ, যা মেন্ডিসের ব্যাটের প্রান্ত ছুঁয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচে পরিণত হয়। উইকেট পাওয়ার পর প্রসিধের উদযাপন ছিল দেখার মতো, তিনি তার অধিনায়কের দিকে আঙুল তাক করে কৃতিত্ব দেন এবং গিলও পাল্টা ইশারা করেন।
শুধু মেন্ডিসের উইকেটই নয়, ধনঞ্জয় ডি সিলভা ও লাহিরু উদারাকেও হাত খুলে খেলতে দেননি তিনি। প্রথম স্পেলে তার বোলিং ফিগার ছিল ৫-২-৯-১। দিনের খেলার শেষ দিকে গিল তাকে আবারও বোলিংয়ে আনেন এবং সেখানেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত কিপটে (৩-০-৪-০)। পঞ্চম দিনে নিরোশান ডিকওয়েলাকে বাউন্সারে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন প্রসিধ। ম্যাচে তার সামগ্রিক বোলিং ফিগার ছিল ১০-৩-১৬-২। ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে করা ৬০টি বলের মধ্যে ৪১টি বল এবং অফ-স্টাম্পের বাইরের চ্যানেলে ফেলা ২৯টি বল থেকে তিনি মাত্র ৯ রান দিয়েছেন। এছাড়া শর্ট ও বাউন্স ডেলিভারির ক্ষেত্রেও তার লাইন-লেন্থ ছিল নিখুঁত, ৩১টি এমন ডেলিভারি থেকে মাত্র ৭ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।
ম্যাচটিতে বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার ২০ ওভারের বেশি বল করে ৬ উইকেট নিয়ে জয়ের মূল নায়ক হলেও, প্রসিধের এই কিপটে বোলিং ভারতের জন্য ইতিবাচক বার্তা। আগামী অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের লাল বলের সিরিজে একাধিক পেসারের প্রয়োজন হবে। সেখানে বুমরাহ, আকাশ দীপ, নীতিশ রেড্ডি কিংবা গুরনুর ব্রারের মতো বোলারদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রসিধকে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

