কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে ২৩ থেকে ২৭ আগস্ট, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যকার ২য় টেস্ট। গলে সিরিজের প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কান ব্যাটারদের চাপের মুখে রেখে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল ভারত, সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এখন কলম্বোর নতুন কন্ডিশনে নামছে দলটি।
এসএসসি মাঠটি ঐতিহাসিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। এটি এশিয়ায় ৫০তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃত এবং এখানে এটি ভারতের ১৪তম টেস্ট। মাঠের স্ট্যান্ডগুলো সর্বোচ্চ ২ স্তরের, যেখানে ঘাসের ব্যাংকের কিছু ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে এবং একটি বিশাল ম্যানুয়াল স্কোরবোর্ড ভিন্ন এক যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়। গলের তুলনায় এই মাঠে ড্র হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেখানে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হবে উভয় দলকে। ভেন্যুর আবহাওয়া ও পিচ নিয়ে পূর্বাভাস বলছে, ব্যাটারদের জন্য রান পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বোলারদের জন্য ম্যাচটি বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে। এছাড়া টেস্টের ৪-৫-৬ দিনসহ পুরো ম্যাচেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং টস এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শ্রীলঙ্কা তাদের দলে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। নিশান মাদুশকাকে বাদ দিয়ে ওপেনার হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে কামিল মিশারাকে। এছাড়া দলে যুক্ত হয়েছেন ৩০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার সাহান আরাচিগে, যিনি ভারত 'এ' দলের বিপক্ষে ৩টি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে যথাক্রমে ৭২ ও ১২৭ রান করেছিলেন। অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভা জানান, বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাটারদের সমন্বয়ের জন্য মিশারাকে নেওয়া হয়েছে। দলের ব্যাটিং অর্ডারে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, ফলে তিন নম্বরে পাসিন্দু সোউরিয়াবান্দারার খেলার সম্ভাবনাই বেশি, যিনি গলে দিনেশ চান্দিমালের কনকাশন সাব হিসেবে অভিষেক করেছিলেন।
ভারতের সম্ভাব্য একাদশে স্পিন আক্রমণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্য থাকায় অফ-স্পিনার সারাংশ জৈনকে দলে নেওয়ার কথা ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অনুশীলনে তাকে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে, যেখানে কুলদীপ যাদবকে সেভাবে দেখা যায়নি। এছাড়া মানভ সুথার ও দেবদূত পাডিক্কালের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
ম্যাচ নিয়ে ভারতের কোচ গ্যারি কারস্টেন আশাবাদী হলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণ নিয়ে এখনই ভাবতে নারাজ। তিনি জানান, দলের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া। অন্যদিকে, ধনঞ্জয় ডি সিলভা স্বীকার করেছেন যে প্রথম টেস্টে নতুন বলে উইকেট নিতে না পারাটাই ছিল দুই দলের মধ্যে মূল পার্থক্য।

