সেরি আ-তে নাপোলির বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে জেনোয়া। তবে এই হারের চেয়েও ম্যাচে কেভিন ডি ব্রুইনার করা প্রথম গোলটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। জেনোয়ার ফুটবল প্রধান ডিয়েগো লোপেজ রেফারিংয়ের কড়া সমালোচনা করে দাবি করেছেন, আজ মাঠে যা ঘটেছে তা পুরো ইতালি দেখেছে।
মারাসি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি যখন ০-০ সমতায় ছিল, তখন জেনোয়ার ডিফেন্ডার জোহান ভাসকুয়েজ একটি লুজ বল ক্লিয়ার করার জন্য ডি ব্রুইনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু পেছন থেকে ধাক্কা খেয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এই সুযোগে বেলজিয়ান তারকা ডি ব্রুইনা মাত্র সাত গজ দূর থেকে কোনো বাধা ছাড়াই বল জালে জড়ান। মাঠের রেফারি মার্কো ডি বেলো ঘটনাটি খুব কাছ থেকে দেখছিলেন। তিনি প্রথমে বাঁশি বাজানোর জন্য মুখে নিলেও শেষ পর্যন্ত আর বাজাননি, কারণ তিনি দেখেছিলেন আক্রমণটি গোলের দিকে যাচ্ছে।
ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি দিয়ে ঘটনাটি পরীক্ষা করা হলেও অন-ফিল্ড রিভিউয়ের কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়নি। ভিএআর কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো স্পষ্ট এবং গুরুতর ভুল ছিল না। এর কিছু পরেই ডি ব্রুইনার পাস থেকে আন্তোনিও ভারগারা নাপোলির হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন, যার ফলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে নাপোলি।
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্ট ইতালি এবং ড্যাজন ইতালিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনোয়ার ফুটবল প্রধান ডিয়েগো লোপেজ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আজ যা ঘটেছে তা পুরো ইতালি দেখেছে। এই রেফারি গত মৌসুমেও নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআর বুথে ছিলেন। তাই যখন তারা শুনেছিলেন যে তাকে এই ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তখন থেকেই তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।
লোপেজ আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত মৌসুমে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ সমতায় ছিল এবং এরপর নাপোলিকে একটি পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া রোমা বনাম জেনোয়া ম্যাচেও তাদের গোলরক্ষকের মুখে আঘাত করা হয়েছিল। দুটি ঘটনাই পরবর্তীতে রেফারি অ্যাসোসিয়েশন ভুল হিসেবে স্বীকার করেছিল। সেরি আ-র ম্যাচগুলোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার জন্য ড্যাজন-এর একটি বিশেষ অনুষ্ঠান রয়েছে, যার নাম ‘ওপেন ভিএআর’। সেখানে রেফারিদের ভুলগুলো পরে স্বীকার করা হয়।
লোপেজ বলেন, ভাগ্যিস ক্যামেরা ছিল, তাই পুরো ইতালি দেখতে পেয়েছে যে নাপোলির গোলের সুযোগ তৈরি করতে ভাসকুয়েজকে স্পষ্টভাবে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। রেফারি তা দেখেও বাঁশি না বাজানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে এটি পুনরায় দেখারও প্রয়োজন মনে করেননি। তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়দের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন তারা, কারণ দলের সবাই জানত যে এই রেফারির কারণে জেনোয়া এর আগেও দুটি বড় ভুলের শিকার হয়েছে।
টেলিভিশন স্টুডিওগুলোতেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে ডি ব্রুইনা ভাসকুয়েজকে ফাউল করেছিলেন, আবার অন্যদের দাবি ডিফেন্ডার নিজেই ধাক্কা খাওয়ার অভিনয় করছিলেন এবং বল ক্লিয়ার করার কোনো সক্রিয় চেষ্টা করেননি। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে, কারণ এটি স্পষ্ট ভুলের আওতায় পড়েনি।

