কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে কোনো দলই পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। তবে এই দিনে শ্রীলঙ্কার ২৯ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার অসিথা ফার্নান্দো নজর কেড়েছেন তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দীর্ঘ সময় ধরে বল করে তিনি ভারতের পাঁচটি উইকেটের মধ্যে তিনটিই নিজের ঝুলিতে তুলে নিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার বোলিং কোচ রায়ান ফন নিকার্ক অসিথার এই পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, অসিথা অনেকটা ডিজেল ইঞ্জিনের মতো, সে যত বেশি সময় ধরে বোলিং করে, তত বেশি ধারালো হয়ে ওঠে। নিকার্কের মতে, অসিথার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার ক্ষমতা। তার অসাধারণ দক্ষতা ও নিখুঁত লাইন-লেন্থ তাকে বোলার হিসেবে অনন্য করে তুলেছে।
দিনজুড়ে হওয়া ৮৫ ওভারের মধ্যে অসিথা একাই করেছেন ১৬ ওভার। তাকে পাঁচটি ছোট স্পেলে ব্যবহার করা হয়েছে। নিকার্ক জানান, অসিথাকে কখন আক্রমণাত্মক হতে হবে এবং কখন বিশ্রাম দিতে হবে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখাটাই তাদের লক্ষ্য।
অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন নিকার্ক। অসিথা তার প্রথম চার ওভারের স্পেলের পর ১৫তম ওভারে আবার ফিরে এসে যশস্বী জয়সওয়ালকে আউট করেন। এরপর দুপুরের খাবারের বিরতির পর তিনি প্যাডিকলকে শর্ট বলে বেশ চাপে ফেলেন। চা বিরতির আগে তিনি শুভমান গিলকে ফিরিয়ে ১২০ রানের জুটি ভাঙেন। দিনের শেষ সেশনে তার একটি সুইং করা বলে রবীন্দ্র জাদেজার অফ-স্টাম্প উপড়ে যায়। দিনশেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ১৫-৫-৪৬-৩। তিনি মোট ৯০টি বলের মধ্যে ৩১টি শর্ট বল করেছেন এবং ৩৬টি ডেলিভারি ৬-৮ মিটার জোনে করে তিনটি উইকেটই তুলে নিয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে নতুন বল হাতে অসিথা ও লাহিরু কুমারাকে নিয়ে আশাবাদী নিকার্ক। তিনি মনে করেন, মাত্র ২ ওভার পুরনো বল নিয়ে দিনের শুরুতেই দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিতে পারলে তা শ্রীলঙ্কার জন্য দারুণ হবে।

